কলকাতা: রাজ্য রাজনীতিতে বর্তমানে অন্যতম আলোচনা হকার উচ্ছেদ। হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে সরব বামেরা। আর হকার উচ্ছেদ নিয়েই এবারে বড়সড় রায় কলকাতা হাইকোর্টের। 'কেন্দ্র বা রাজ্য কেউ এই অধিকার কেড়ে নিতে পারে না। জীবনের অধিকার, কর্মসংস্থানের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। সমাজের দুর্বল শ্রেণির মৌলিক অধিকার কোনও কারণ দেখিয়ে খর্ব করা যায় না। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারকে তাদের সাহায্য করার কথা।'- আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের এই যুক্তিতে আপাতত হকার উচ্ছেদে স্থগিতাদেশ জারি করল হাইকোর্ট।
হাইকোর্ট জানিয়েছে বালিগঞ্জ, বামনগাছি, বারুইপুর, ডানকুনি, গুমা, বনগাঁ, দুর্গনগর, মথুরাপুর, যাদবপুর-সহ যত রেলের নোটিশ নিয়ে মামলা হয়েছে জুন মাস পর্যন্ত, সেখানে নতুন করে আগের নোটিশ কার্যকর করা যাবে না।
মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যর বক্তব্য, “যেভাবে উচ্ছেদ করা হচ্ছে তাতে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। কেন্দ্র বা রাজ্য কেউ এই অধিকার কেড়ে নিতে পারে না। জীবনের অধিকার, কর্মসংস্থানের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। সমাজের দুর্বল শ্রেণির মৌলিক অধিকার কোনও কারণ দেখিয়ে খর্ব করা যায় না। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারকে তাদের সাহায্য করার কথা। ঠেলা গাড়ি, ঝুপড়ি দোকান করে হাজার হাজার পরিবার সংসার চালাচ্ছে। বলা ভালো চালাতে বাধ্য হচ্ছে। তাদের ওপর আরও চাপ বাড়ানো সরকারের কাজ হতে পারে না।”
তাঁর আরও যুক্তি, “রাষ্ট্র তাদের শত্রু হিসেবে আচরণ করতে পারে না। অথচ এখানে হঠাৎ বুলডোজার পাঠিয়ে ভেঙেচুরে সব শেষ করে দেওয়া হচ্ছে। প্রতি রাতে কোনও না কোনও জায়গায় লোকজন রাতপাহারা দিয়ে বসে থাকছেন। তাতেও বুলডোজার হামলা থেকে বাঁচতে পারছে না। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণে আছে, যখন কেউ রেলের জমিতে বসে পড়েছেন তখন তাঁকে বাধা না দিলে দু-তিন দশক পথ তাকে উচ্ছেদ করা যাবে না।"
অন্যান্য মামলাকারীর আইনজীবী ফিরদৌস শামিম-সহ পাল্টা রেলের আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদীও নিজেদের বক্তব্য রাখেন বুধবারের শুনানিতে। সবপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্যর মন্তব্য, বৈধ হকার হলে তাঁদের বিকল্প বসার জায়গার বন্দোবস্ত করতে হবে রেলকেই। তবে আপাতত উচ্ছেদে স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি জায়গা, লাইসেন্স সহ বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে হাইকোর্ট।

No comments:
Post a Comment