ঋতব্রত কাণ্ডে স্থগিতাদেশ নয়, হাইকোর্টে ধাক্কা তৃণমূলের - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, June 11, 2026

ঋতব্রত কাণ্ডে স্থগিতাদেশ নয়, হাইকোর্টে ধাক্কা তৃণমূলের


কলকাতা: বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে তুঙ্গে তরজা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কার্যত ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে তৃণমূল। এই জল গড়িয়েছে আদালতেও। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে এবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভার অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সোমবার তৃণমূলের হয়ে মামলা করলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে মামলা দায়ের হয়। বৃহস্পতিবার ছিল সেই মামলার শুনানি। কিন্তু স্পিকারের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দিল না হাইকোর্ট। 


আদালতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষে লড়ছেন প্রবীণ আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান, মামলার ফাইলটি কিছুক্ষণ আগেই তাঁদের হাতে এসেছে, তাই শুনানি এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়া হোক। এর তীব্র বিরোধিতা করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, শুনানি যদি পিছোতেই হয়, তবে ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করার সিদ্ধান্তের ওপর অবিলম্বে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেওয়া হোক। কারণ, এই সংক্রান্ত কোনও নির্দেশিকাই এখনও জনসমক্ষে আনা হয়নি। তবে এই নিয়ে কোনও স্থগিতাদেশ দেয়নি আদালত। অর্থাৎ আপাতত ঋতব্রতই থাকছেন বিরোধী দলনেতা। 


এদিন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের কাছে প্রশ্ন তোলেন, 'বিরোধী দলনেতা বেছে নেওয়ার অধিকার কার? রাজনৈতিক দলের না আইনের?' তিনি যুক্তি দেন, নিয়ম অনুযায়ী রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল থেকেই বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত হন এবং সেই নির্বাচন প্রক্রিয়ার রাশ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের হাতেই থাকা উচিৎ।


অপরদিকে শুনানি চলাকালীন বিচারপতির প্রশ্ন, 'যদি কোনও রাজনৈতিক দলে দলীয় বিধায়কের চেয়ে নির্দল বা নিরপেক্ষ সদস্যের সংখ্যা বেশি থাকে, তবে কী হবে?' জবাবে কল্যাণ জানান, সেক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একচ্ছত্র অধিকার স্পিকার বা অধ্যক্ষের থাকে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ১৭তম লোকসভার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সে সময় প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস মাত্র ৫২টি আসন পাওয়ায় (কমপক্ষে ৫৫টি আসনের কোটার কম) স্পিকার কাউকেই বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেননি। ফলে অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে কেবল সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে কাজ করতে হয়েছিল। 


এদিন উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে বিরোধী দলনেতার নিয়োগপত্র সহ সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও তথ্য হাইকোর্টে জমা দিতে হবে। ১৬ জুন অর্থাৎ আগামী সপ্তাহে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। 


উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূলে ডামাডোল চলছে। এরই মাঝে সামনে আসে সই কেলেঙ্কারি কাণ্ড। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে সামনে আসে এই সই জাল কাহিনী। বর্তমানে সিআইডি এর তদন্ত করছে। এ নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা। এরপর প্রকাশ্যে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের নাম জানিয়ে দেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখা যায় দুই নেতাকে বহিষ্কার করে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু ঋতব্রতর পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকেই সমর্থন করেন তৃণমূল ৫৮ বিদ্রোহী বিধায়ক।ৎ মমতা হিন বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা মনোনীত হন। ‌এরপর ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুকে চিঠি দেন এবং তাঁকেই বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেন স্পিকার। 


কিন্তু স্পিকারের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল কংগ্রেস। তবে, এদিন ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করার সিদ্ধান্তের ওপর কোনও অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিল না আদালত।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad