উত্তর ২৪ পরগনা: রেলের জমিতে থাকা অবৈধ দোকান সরিয়ে ফেলতে হবে, এই মর্মে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল আগেই। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি বলেই অভিযোগ। এরপরেই সোমবার গভীর রাতে শুরু হল উচ্ছেদ অভিযান। হাবড়া স্টেশন চত্বরে রাতেই চলল বুলডোজার। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল অবৈধ সব দোকানপাট। যাত্রীদের সুবিধার জন্যই এই অভিযান বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ। যদিও প্রকাশ্যে এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি প্রশাসনের আধিকারিকরা।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসত মহকুমার হাবড়ায় সোমবার রাতে হকার উচ্ছেদ অভিযানে নামে প্রশাসন। শিয়ালদহ বনগাঁ শাখার হাবড়া রেল স্টেশনের চত্বরে বেআইনি হকারদের অস্থায়ী স্টলগুলি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়। হাবড়া রেল স্টেশন ও যশোর রোড সংযোগস্থলেও উচ্ছেদ অভিযান চালায় পুলিশ। প্রায় একাধিক দোকান ও ঘুমটি ঘরও উচ্ছেদ করা হয়। গভীর রাত পর্যন্ত এই উচ্ছেদ অভিযানকে ঘিরে উত্তেজনা দেখা দেয়। গত এক সপ্তাহ আগে বেআইনি হকারদের সরে যেতে বলে নোটিশ জারি করে হাবড়া থানার পুলিশ। লোকসান এড়াতে নিজ নিজ মালপত্র সরিয়ে নিয়ে যেতেও বলা হয় হকারদের। কেউ কেউ সেই নির্দেশ মেনে কাজও করলেও, অনেকেই করেননি বলেই অভিযোগ।
উত্তর ২৪ পরগনার অন্যতম ব্যস্ত রেলস্টেশন হাবড়া। প্রতিদিন নিত্যযাত্রীদের ভিড় লেগেই থাকে। স্টেশনের বাইরে রেলের জমিতে ব্যাঙের ছাতার মতো অবৈধ দোকান গজিয়ে উঠেছিল বলে অভিযোগ। ফলে ঘিঞ্জি হয়ে গিয়েছিল গোটা এলাকা। এই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের মধ্যেও ক্ষোভ ছিল। রাজ্যে পালাবদলের পরে স্টেশন চত্বরকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, রাত সাড়ে বারোটা নাগাদ হাবড়া স্টেশন চত্বর-সহ গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ছিল বনগাঁ- বারাসত জিআরপি এবং রাজ্য পুলিশও। শুরু হয় মাইকিং। অবিলম্বে রেলের জমি খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দেন তাঁরা। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে হাজির হন সিপিএমের নেতা-কর্মীরা। পুলিশের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন তাঁরা।
কিন্তু সব কিছু উপেক্ষা করেই শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় একের পর এক অবৈধ দোকান, গুমটি, স্টল। রেলের জমিতে বেশ কিছু পাকা ঘরও ছিল বলে অভিযোগ। সেগুলিও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সিপিএমের একটি পার্টি অফিসও বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
উল্লেখ্য, রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই চলছে অবৈধ উচ্ছেদ। এর আগেও নোটিশ জারি করে হাওড়া, শিয়ালদহ স্টেশন, দমদম এবং যাদবপুরেও অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে রেল। স্টেশন চত্বর থেকে অবৈধ দোকান সরিয়ে দেওয়ায় যাত্রীদের একাংশ খুশি। তাঁদের মতে, এর ফলে হকারদের দৌরাত্ম কিছুটা হলেও কমবে। স্টেশন চত্বর আরও খোলামেলা হবে। ব্যস্ত সময়ে চলাফেরায় সমস্যা হবে না। তবে দোকানদারদের একাংশের অভিযোগ, এ ভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালানো বেআইনি। আদতে তাঁদের রুটিরুজি কেড়ে নেওয়া হল।
এদিনও রুটি-রুজি হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন দোকান মালিকরা। বিকল্প কর্মসংস্থানের দাবী জানান ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

No comments:
Post a Comment