কলকাতা: 'এই ডিম সংস্কৃতি নিয়ে এসেছেন শুভেন্দু অধিকারী' কুণাল ঘোষের ওপর হামলার ঘটনায় চটে লাল তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির লোকেরাই একাজ করেছে এবং মুখ্যমন্ত্রী এসবে প্ররোচনা দিচ্ছেন বলেই দাবী করেন কল্যাণ। পাশাপাশি সিআইডির সঙ্গে বিজেপির যোগসাজশ নিয়েও বিস্ফোরক দাবী করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সন্ধ্যায় কালীঘাটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কল্যাণ। বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের ওপর হামলার ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপির ওপর প্রচণ্ড ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "বিজেপির কয়েকটা গুণ্ডা ডিম ছুঁড়ে মেরেছে। সাংবাদিকদের সামনেই মেরেছে, ও যখন সাংবাদিক সম্মেলন করছিল। এঁরা হচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর লোক। এই ভবানীপুর বিধানসভা শুভেন্দু অধিকারীর। সেই বিধানসভায় বিজেপির গুণ্ডাগুলো এভাবে ডিম ছুঁড়ে মারছে।"
সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির উঠোনে পৌঁছে গিয়েছিল সিআইডি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি লাগোয়া তৃণমূলের কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হয়। সেদিনের কথা মনে করিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমি সেদিন আপনাদের সামনে বলেছিলাম যে সিআইডি যাদের নিয়ে এসেছিল দুটো সাক্ষী, তাঁরা বিজেপির এবং যে আজ ডিম ছুঁড়েছে সে তাঁদের মধ্যে একজন। তিনি জানান, ওই যুবকের ছবি তিনি তুলে রেখেছেন।
এদিন মোবাইলে তোলা সেই ছবি সংবাদমাধ্যমকে দেখিয়ে তৃণমূল সাংসদ বলেন, "এই ছেলেটি বিজেপির গুণ্ডা, শুভেন্দু অধিকারীর লোক। ডিম ছুঁড়ে মারছে অন্যান্য আরও ছেলেদের নিয়ে।" 'তাহলে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়?' প্রশ্ন কল্যাণের।
পুলিশের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দেন কল্যাণ। তিনি বলেন, "এতগুলো পুলিশ পুতুলের মত দাঁড়িয়ে থাকে। একদিকে পুলিশ একদিকে বিজেপির গুণ্ডা, এই নিয়ে আমরা পড়ে রয়েছি। পশ্চিমবঙ্গের গণতন্ত্র কোন জায়গায় ছুঁড়ে ফেলেছে দেখুন!"
তার দাবী, এই সমস্ত করে সবাইকে ভয় দেখানো হচ্ছে। এমনকি কমিশনারকে ফোন করা হলেও ২০ মিনিট পরেও কেউ আসেনি বলেও অভিযোগ করেন তৃণমূল সাংসদ। তিনি বলেন, "এখানে (মমতার বাড়ির সামনে) দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশরা পুতুলের মত, কোনও পদক্ষেপ করবে না। শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে পশ্চিমবাংলার গণতন্ত্রকে নষ্ট করছেন। এ ভাবা যায় না। এভাবে মানুষকে ডিম ছুঁড়ে ছুঁড়ে ভয় দেখানো-মারা, এরপর তো আমরা হাঁটতে চলতে পারব না। পশ্চিমবঙ্গের গণতন্ত্র এই জায়গায় পৌঁছে গেল যে, মানুষ হাঁটতে পারবেন না!"
কল্যাণের বক্তব্য, "ভারতবর্ষ তথা পশ্চিমবঙ্গের গণতন্ত্র যেভাবে নষ্ট হচ্ছে, তা অকল্পনীয়। কোনও উন্নয়ন, উন্নয়ন নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত না গণতন্ত্র ঠিকভাবে থাকে। সারাদিন ধরে ডিম ছুঁড়ছে।" মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে সাইলেন্সার খুলে বিজেপির লোকেরা সারারাত ধরে মোটরসাইকেল চালায় বলেও অভিযোগ করেন কল্যাণ।
রাজ্য রাজনীতিতে ডিম ছোড়ার সংস্কৃতি আমদানির জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেই দায়ী করেন তৃণমূল সাংসদ। কল্যাণ বলেন, "শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হয়ে এটাকে প্ররোচনা দিচ্ছেন এবং হিসেব কষে এটা করাচ্ছেন। এটা তো শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা। যে মুখ্যমন্ত্রী নিজের বিধানসভায় মানুষকে নিরাপত্তা দিতে পারেন না, তিনি অপদার্থ মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বিজেপির লোককে দিয়ে তিনি এই কাজ করাচ্ছেন।"
বিরোধীদের কণ্ঠ রোধ করার জন্য এসব করা হচ্ছে বলে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবী করেন। তিনি বলেন, "ভয় দেখানো হচ্ছে। ঘর থেকে বেরোবেন না, বেরোলেই ডিম ছুঁড়বে। এই ডিম সংস্কৃতি নিয়ে এসেছেন শুভেন্দু অধিকারী।" তৃণমূল সাংসদের কথায়, "পুলিশ সব দাঁড়িয়ে থাকে। কেউ ফেসবুক দেখে, কেউ গা হেলিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এমনকি পুলিশও বলে 'মারো'। পুলিশ মন্ত্রী তো শুভেন্দু অধিকারী আর দলের মুখ্যমন্ত্রী, 'দুজন মিলে মারো'। আমরা জানি না কী হবে না হবে।" এঁরা ভীতির সঞ্চার তৈরি করছেন, তোপ কল্যাণের। ডিম হামলার বিষয়ে কুণাল ঘোষ থানায় অভিযোগ করেছেন বলেও জানান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
উল্লেখ্য, সোমবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির অদূরেই ডিম হামলার শিকার হন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়ে এক যুবক। সেই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন কুণাল। পাশাপাশি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা বলয়ে এই ধরণের ঘটনা কীভাবে ঘটতে পারে বলেও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

No comments:
Post a Comment