কলকাতা: নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই সময়টা ভালো যাচ্ছে না রাজ্যের প্রাক্তন শাসক দলের। বিশেষ করে বেজায় চাপে পড়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট প্রচারে উস্কানিমূলক মন্তব্য ও বিধানসভায় সই কেলেঙ্কারি কাণ্ডে ইতিমধ্যেই সিআইডি তাঁকে একের পর এক নোটিশ দিয়ে চলেছে। এই আবহে ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হল অভিযোগ। এবার তাঁর বিরুদ্ধে শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারী ব্যবসায়ী সঞ্জয় সিংহলের দাবী, নির্বাচনী প্রচারের সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন, তা নিয়েই এই অভিযোগ।
জানা গিয়েছে, ভোটপ্রচারের সময় ডিজে বাজানো নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবী, ওই মন্তব্য জনমনে উত্তেজনা ছড়াতে পারে এবং সামাজিক সম্প্রীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। সেই কারণেই শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানার দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন ব্যবসায়ী সঞ্জয় কুমার সিংঘল। শনিবার এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "গতকাল আমি শিলিগুড়ি সাইবার সেল থানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছি। এতে ১৭৫, ১২/০৬/১/২০২৬-এর আওতায় নথিভুক্ত হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি এমন অনেক মন্তব্য করেছিলেন যা আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না... একজন সাংসদ হিসেবে কীভাবে আইন ভাঙতে পারেন? ৪ঠা মে তিনি যে মন্তব্য করেছিলেন, তাতে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করেন... একজন ব্যক্তি নিজেকে এতটাই শক্তিশালী মনে করেন যে, তিনি প্রকাশ্যে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ করেন।"
তিনি আরও বলেন, "ভয়মুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। এমন নির্বাচন কি সত্যিই ভয়মুক্ত হতে পারে? যদি কেউ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ করে, তাহলে স্থানীয় জনগণ নিশ্চয়ই ভয়ে কাঁপবে।" অভিযোগকারীর কথায়, এই অভিযোগ দায়ের করার পেছনে আমার উদ্দেশ্য কাউকে হয়রানি করা বা কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা নয়। আমার লক্ষ্য হল এটা দেখানো যে আইনই সর্বোচ্চ। প্রায়শই বলা হয় যে আইন সবার জন্য সমান; আমি দেখতে চাই যে তা সত্যিই সত্যি কি না। এই অভিযোগের পর যদি আদালত বা প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তবে তা প্রমাণ করবে যে আইনের চোখে সমতার ধারণাটি কেবলই একটি বিভ্রম... তিনি অত্যন্ত উস্কানিমূলক মন্তব্য করছিলেন। ২০২১ সালের সহিংসতার কথা ভাবলে আমার গা শিউরে ওঠে। তারা যদি জিতে যেতেন, আর যেভাবে কথা বলছিলেন, সেটা দেখে মনে হচ্ছিল আমি হয়তো ২০২৬ সালের মধ্যে অভিযোগ দায়ের করার মতো অবস্থানে থাকতাম না।"
তিনি আরও বলেন, "সেই আস্থা এখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যদিও শুভেন্দুর সরকার নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে, আপনাকে স্বীকার করতেই হবে যে, জনরোষ দমন করা কারও নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এই জনরোষ নির্বাচনের আগে প্রদর্শিত ঔদ্ধত্যের ওপর আঘাত হানে। ডিম ছুঁড়লে কেউ মরে যায় না বরং এটি তাঁদের ঔদ্ধত্য চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়... তৃণমূল দল ভেঙে যাচ্ছে না। তৃণমূলের ঔদ্ধত্যই ধূলিসাৎ হচ্ছে।"
উল্লেখ্য, এর আগেও ভোট প্রচারে উস্কানিমূলক মন্তব্যের জেরে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। রাজীব সরকার নামে এক সমাজকর্মী তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই মামলারই তদন্তভার নিয়েছে সিআইডি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৬ই জুন সকাল ১১ টায় হাজিরা দিতে বলা হয়েছে এই মামলায়।
শুক্রবার তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে নোটিশ দিয়ে আসে সিআইডি। এর আগে বিধানসভায় সই কেলেঙ্কারি কাণ্ডে বৃহস্পতিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি। তিনবার হাজিরা এড়িয়ে যাওয়ার পর এদিন হাইকোর্টের নির্দেশ ভবানী ভবনে হাজিরা দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

No comments:
Post a Comment