ন্যাশনাল ডেস্ক, ১২ জুন ২০২৬: যুবককে মারধরের পর মৃত ভেবে কুয়োতে ফেলে দেয় তাঁরই বন্ধু। কিন্তু ওই যে কথায় বলে, রাখে হরি মারে কে'! এখানেও তাই হল। চারদিন পর কুয়ো থেকে জীবিত উদ্ধার হন ওই যুবক। ওড়িশার বরগড়ে ঘটেছে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। গুরুতর আহত যুবকটি চার দিন ধরে কুয়োর মধ্যে আটকা পড়ে থাকেন। অবশেষে সাহায্যের জন্য তাঁর চিৎকার শুনে গ্রামবাসীরা তাঁকে জীবিত উদ্ধার করেন।
ঘটনাটি বিজেপুর ব্লকের সামলাইপাদার গ্রামের একটি নার্সারি ক্যাম্পাসে ঘটেছে। আহত যুবকটির নাম তুলসিরাম বারিহা, তিনি পদ্মপুর মহকুমার পূর্ণা গ্রামের বাসিন্দা।
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, রবিবার দুপুর ৩টার দিকে তুলসিরামকে এক বন্ধুর হামলা করে বলে অভিযোগ। হামলায় গুরুতর আহত হন তুলসিরাম। এমতাবস্থায় তাঁকে মৃত ভেবে একটি নির্জন ও পরিত্যক্ত কুয়োতে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত।
এদিকে নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবার ও স্থানীয়রা তুলসিরামের খোঁজ করছিলেন। ওদিকে আহত যুবক তখন কুয়োর ভেতরে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। জানা গেছে, তিনি প্রায় চার দিন ধরে খাবার বা পানীয় জল ছাড়াই কোনও মতে বেঁচে ছিলেন। গুরুতর আঘাত সত্ত্বেও তিনি সাহস হারাননি এবং অগভীর জলে দাঁড়িয়েই সাহায্যের জন্য চিৎকার করে যাচ্ছিলেন এবং ভগবানকে ডাকছিলেন। জলে তাঁর পা দুটি প্রায় পচেই গিয়েছে।
বৃহস্পতিবার ঘটনাটি এক নাটকীয় মোড় নেয়। বিহারী মালিক নামে এক গ্রামবাসী নার্সারি এলাকা থেকে কাঠ সংগ্রহ করছিলেন। তিনি কুয়োর দিক থেকে একটি ক্ষীণ শব্দ শুনতে পান। কাছে গিয়ে তিনি দেখেন, ভেতরে একজন ব্যক্তি আটকা পড়ে সাহায্যের জন্য বারবার ‘ভগবান, ভগবান!’ বলে চিৎকার করছেন।
বিহারী মালিক অবিলম্বে গ্রামে ছুটে গিয়ে গ্রামবাসীদের খবর দেন। এরপর গ্রামবাসীরা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথ উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং প্রাণপন চেষ্টার পর তুলসিরামকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। এরপর ওই যুবককে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। আক্রান্ত যুবকের প্রাথমিক জবানবন্দি ও তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত বন্ধুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। হামলার উদ্দেশ্য এবং পুরো ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত করছে।

No comments:
Post a Comment