ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ১৭ জুন ২০২৬: ফ্রান্সের এভিয়ানে অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক বক্তৃতা এবং বিশ্ব অর্থনীতি ও যুদ্ধের মতো গুরুতর বিষয়াবলীর মাঝেও কিছু এমন মুহূর্ত সামনে আসে, যা হট মাইক রেকর্ড করে নেয়। এই কথোপকথনগুলোতে ধূমপান ত্যাগ থেকে শুরু করে ফুটবল, জন্মদিনের উপহার, ট্রাম্পের রসিকতা এবং মোদী-মেলোনির ভাইরাল রসায়নের মতো আকর্ষণীয় বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বৈঠক শুরুর আগে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে জিজ্ঞাসা করেন যে, তিনি সেদিন সকালে ধূমপান করেছেন কি না? মেলোনি উত্তর দেন যে তিনি ১লা মে থেকে ধূমপান করেননি। এ কথা শুনে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের আধিকারিকরা তাঁকে করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানান। মার্ক কার্নি রসিকতা করে জিজ্ঞাসা করেন, "আপনি কি নিকোটিন প্যাচ লাগিয়েছেন?", যা শুনে উপস্থিত সকল নেতা হেসে ওঠেন।
বিশ্ব রাজনীতির মাঝে ফুটবলও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। নেতারা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে চলমান ফিফা বিশ্বকাপ নিয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করেন। একজন নেতা ফরাসি দলের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, "আলে ল্য ব্লু" (নীলদের জয় হোক)। আরেকজন প্যারিস সেন্ট-জার্মেইয়ের (পিএসজি) চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের প্রশংসা করেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের ০-০ ড্রকে "চমৎকার" বলে বর্ণনা করেন।
ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তার সঙ্গে কথোপকথনের সময় ট্রাম্পের একটি সংক্ষিপ্ত মন্তব্য আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। ট্রাম্প বলেন, "আপনি কি বুঝতে পারছেন?" এরপর তিনি কস্তার দিকে তাকিয়ে শুধু একটি শব্দ বলেন, "গ্রিনল্যান্ড"। পরবর্তী কথোপকথন শোনা যায়নি, কিন্তু গ্রিনল্যান্ডের প্রতি ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের আগ্রহের কারণে এই মন্তব্যটি সংবাদ শিরোনামে আসে।
ওয়াকিং লাঞ্চের আগে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি লক্ষ্য করেন যে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তাঁর ঘড়ি ভুলে গেছেন। কার্নি রসিকতা করে বললেন, "ম্যাক্রোঁ তাঁর ঘড়িটা এখানে ফেলে গেছেন।" ট্রাম্প সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিলেন, "যদি ফেলেই দিয়ে থাকেন, তবে আমাকে দিয়ে দিন।" এই শুনে সেখানে উপস্থিত নেতারা হেসে ওঠেন।
আগামী বছর ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাইক্লিং বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের প্রচারের জন্য ম্যাক্রোঁ জি৭-এর প্রত্যেক নেতাকে একটি করে সাইকেল উপহার দেন। ট্রাম্পও একটি সাইকেল পেয়েছেন। যেখানে তিনি প্রায় সবসময় সাইকের চালানো ও ব্যায়ামের প্রতি দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলেন। এদিকে, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ, ট্রাম্পকে জার্মান জাতীয় ফুটবল দলের একটি জার্সি উপহার দেন, যেটিতে ট্রাম্পের নাম এবং ৪৭ নম্বর লেখা ছিল। এটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর ৪৭তম মেয়াদের প্রতি একটি সম্মানসূচক ইঙ্গিত। হাসিমুখে ট্রাম্প জার্সিটি দেখান এবং ছবিও তোলেন। পরে মের্জ ছবিটি শেয়ার করে লেখেন, "অবশেষে, আমরা একই দলে।"
শীর্ষ সম্মেলন চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সাক্ষাৎ আবারও সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রথাগত পারিবারিক ছবি তোলার আগে দুই নেতা উষ্ণভাবে একে অপরকে অভিবাদন জানান। মেলোনি হেসে বলেন, "আপনাকে আবার দেখে ভালো লাগছে।" জবাবে প্রধানমন্ত্রী মোদী ইনস্টাগ্রামের কথা উল্লেখ করেন। মেলোনি হেসে বলেন, "হ্যাঁ, আমরা ইনস্টাগ্রামেই সবচেয়ে বিখ্যাত।" এ কথা শুনে আশেপাশের নেতারাও হেসে ফেলেন।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির মধ্যকার কথোপকথনও রেকর্ড হয়। ম্যাক্রোঁ জেলেনস্কিকে বলেন, "গতকাল ক্যামেরার সামনে আমাদের মধ্যে একটি কঠিন আলোচনা হয়েছিল।" তিনি জানতে চান ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর আলাদা কোনূ বৈঠক নির্ধারিত আছে কিনা। জেলেনস্কি যখন তাঁকে জানান যে, তিনি পরের দিন ব্রাসেলসের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন, ম্যাক্রোঁ উত্তর দেন, "ঠিক আছে, আমি এর ব্যবস্থা করে দেব।"
অন্য একটি কথোপকথনে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ট্রাম্পকে চীন থেকে বৈদ্যুতিক যানবাহন আমদানির নতুন ব্যবস্থা সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেন। কার্নি বলেন, এটি কানাডার বাজারের তিন শতাংশেরও কম, অর্থাৎ প্রায় ৪৯,০০০ গাড়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। তিনি ট্রাম্পকে বলেন, "আমরা একটি কঠোর সীমা নির্ধারণ করেছি, আমি ভেবেছিলাম আপনার এটি পছন্দ হবে।" ট্রাম্প উত্তর দেন, "ভালো, আমার এটা পছন্দ হয়েছে।"
জি৭ গোষ্ঠীতে ফ্রান্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, ইতালি, জাপান এবং যুক্তরাজ্য অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নও এতে অংশগ্রহণ করে। এবার ভারত, ব্রাজিল, কেনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউক্রেনসহ বেশ কয়েকটি অংশীদার দেশকেও এভিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যেখানে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।

No comments:
Post a Comment