দলের ভরাডুবি নিয়ে বিস্ফোরক অনুব্রত, আইপ্যাককে নিশানা - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, June 12, 2026

দলের ভরাডুবি নিয়ে বিস্ফোরক অনুব্রত, আইপ্যাককে নিশানা

 


বীরভূম: যার ভয়ে বীরভূমে এক সময় বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খেত, নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকেই কার্যত খোঁজ মিলছে না তাঁর। নিশ্চয়ই এতক্ষণে আন্দাজ করতে পেরেছেন তিনি কে? হ্যাঁ তিনি তৃণমূলের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল। নির্বাচনের ফল বের হওয়ার পরেই অনুব্রত আর ঘর থেকে বের হন নি। যাননি দলীয় কার্যালয়েও। কলকাতার সঙ্গেও কোনও যোগাযোগ করেননি। দীর্ঘদিন পরে শেষমেষ মুখ খুললেন তৃণমূল নেতা। ছাব্বিশের নির্বাচনে দলের ভরাডুবি জন্য সরাসরি দায়ী করলেন আইপ্যাককে। তাঁর বিস্ফোরক দাবী, “আইপ্যাকই তৃণমূলের ভরাডুবির মূল কারণ।” 


বোলপুরে তৃণমূলের জেলা দলীয় কার্যালয়ে সংবাদমাধ্যমে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে অনুব্রত বলেন, “আইপ্যাক এসেছে, দল শেষ হয়েছে। সংগঠনের শক্তিতেই দল চলে। আইপ্যাক দিয়ে দল চলে না।” আক্ষেপের সুরে জানান, নির্বাচনে তাঁকে কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী? তিনি কি অন্য কোনও দলে যাবেন, কিংবা তৃণমূলের বিদ্রোহীদের দলে নেতা হিসাবে যোগ দেবেন? রহস্য জিইয়ে রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্নেহধন্য ‘কেষ্ট’র উত্তর, “সম্মান পেলে দল করব, না পেলে নীরব থাকব।” 


তাঁর কথায়, "এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের ছাপই আমার গায়ে লেগে আছে। অন্য কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবিনি। প্রতিদিন বোলপুরের দলীয় কার্যালয়ে আসি। এটাকে আমি মন্দির বলে মনে করি। তবে দলের সর্বনাশ করেছে আইপ্যাক। সংগঠনের তথ্য বাইরে পাচার করেছে। বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে তাদের কোনও সংযোগ ছিল না।” 


নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পর কার্যত অন্তরালে চলে গিয়েছিলেন। নির্বাচনী ফল ঘোষণার পর প্রথমবার প্রকাশ্যে মুখ খুলে দলের পরাজয়, সাংগঠনিক পরিস্থিতি, আইপ্যাকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ও তাঁকে কোনও বিশেষ দায়িত্ব না দেওয়া নিয়ে একের পর বোমা ফাটালেন বীরভূমের একসময়ের দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল।


অনুব্রতর অভিযোগ, নির্বাচনে তাঁকে বিশেষ কোনও দায়িত্ব দেয়নি দল। অনুব্রতের কথায়, "জেলায় তৃণমূলের কোর কমিটির বৈঠকেও বিধানসভা নির্বাচনের ভোট পরিচালনার আমাকে আগের মত কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। বলা হয়েছিল বিধায়করা ডাকলে যাবেন। আমি প্রশ্ন করেছিলাম, দলে আমার ভূমিকা কী? তার কোনও স্পষ্ট উত্তর পাইনি। ফলে এবারের নির্বাচনে আমি সেইভাবে কাজ করিনি।" 


দলের বিধায়ক-সাংসদদের বিদ্রোহী প্রসঙ্গে বলেন, "তাঁরা অন্যায় কিছু করেননি। বিজেপিতে যাননি। নিজেদের মতো একটি ফ্রন্ট তৈরি করেছে।"


আইপ্যাকের বিরুদ্ধে টাকা তোলার মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন অনুব্রত। তিনি বলেন, "১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের সময় কোনও আইপ্যাক ছিল না। তখন আমরা নিজেদের শক্তিতেই দলকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলাম। ২০০৯ সালে শতাব্দী রায়কে জিতিয়েছি। ২০১১ সালে সরকার গড়েছি। ২০১৪ থেকে ২০১৯ সালেও সফল হয়েছি। তখনও আইপ্যাক ছিল না। তাহলে আইপ্যাকের প্রয়োজন হল কেন?" অনুব্রত আরও বলেন, "আইপ্যাক সংগঠনের বাস্তব পরিস্থিতি না বুঝেই দলকে ভুল পথে পরিচালিত করেছে। বীরভূমের মুরারই বা লাভপুরের রাজনৈতিক বাস্তবতা উত্তরপ্রদেশ বা বিহারের আইপ্যাক কেউ বুঝবে কী ভাবে? তারা সংগঠন সম্পর্কে কিছুই জানে না। শুধু অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যেই এসেছিল।"

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad