কলকাতা: অভিষেকের ঔদ্ধত্যে বেজায় চটেছিলেন কল্যাণ। এবারে তাঁকে নিয়েই বড় কথা বলে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। বললেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধিকার রয়েছে তাঁকে কটু কথা বলার। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে এত নরম কথা কবে শোনা গিয়েছে, খুব একটা মনে নেই হয়তো কারোই। সেই অভিষেক শুক্রবার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে চূড়ান্ত নরম মন্তব্য রাখেন।
কল্যাণ নিয়ে বলতে গিয়ে একটুকুও মাথা গরম করলেন না অভিষেক। উল্টে খানিকটা কৃতজ্ঞতার সুরে বললেন, ‘কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধিকার রয়েছে আমাকে নিয়ে কথা বলার।’ বৃহস্পতিবার ডিজে মামলার তদন্তে অভিষেকের বাড়িতে নোটিশ দিতে আসে সিআইডি। কিন্তু প্রায় আড়াই ঘন্টা সিআইডিকে অপেক্ষা করিয়ে শেষে বাড়িতে আসেন অভিষেক। সেখানেই বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়াতে গিয়েই উঠে আসে কল্যাণের প্রসঙ্গ। চেনা ছন্দ, স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গি থেকে খানিকটা সরে অভিষেক বলেন, “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধিকার রয়েছে আমাকে নিয়ে কথা বলার। অধিকার রয়েছে চারটে কটু কথা বলার। ছোট থেকে মানুষ করেছেন। বড় হতে দেখেছেন।” এরপরই তাঁর সংযোজন, “আমি ওনার কথা খারাপ ভাবে নিই না। ওনার হয়তো কোনও ঘটনা খারাপ লাগতে পারে, তাই বলেছেন। আমার কোনও ব্যক্তিগত ক্রোধ বা ক্ষোভ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে নেই। আমি আগেও তাঁকে সম্মান করতাম, আগামীতেও করব।
কী বলেছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়?
একদিন আগেই চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তৃণমূলের হেভিওয়েট সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন, 'অভিষেকের জন্যই দলের সর্বনাশ হয়েছে। দিদি (মমতা)-কে বাছতে হবে হয় আমি, নয় অভিষেক।’ একদা এই কল্যাণই অভিষেকের হয়ে একের পর এক মামলা লড়েছেন। এদিন এই কল্যাণই অভিষেকের বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্যের অভিযোগ এনে তাঁর রক্ষাকবচ মামলা থেকে সরেও দাঁড়িয়েছেন।
কল্যাণ সাফ বলছিলেন, "এত ঔদ্ধত্যের কী আছে! সময় থাকতে শিক্ষা পেল না। আমি তো ক্যামাক স্ট্রিটের কর্মী নই। আজকে বুঝতে হবে, ওর জন্য দলটার সর্বনাশ হয়েছে। এখনও যদি ওটা না বোঝে, তাহলে কিছু করার নেই।” কিন্তু এবার অভিষেকের গলায় কল্যাণকে নিয়ে শোনা গেল অন্য সুর।

No comments:
Post a Comment