কলকাতা: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর রেগে লাল তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের 'ঔদ্ধত্যে' বিরক্ত হয়ে তাঁর রক্ষাকবচ মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন বর্ষীয়ান সাংসদ। এমনকি একই পথে হেঁটেছেন তাঁর ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এদিন অভিষেকের হয়ে আদালতে সওয়াল করছেন আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য। এখানেই শেষ নয়, তৃণমূলের অস্তিত্ব সঙ্কটের মাঝেই অভিষেকের আচরণে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ কল্যাণের। বলেই দিলেন, 'হয় অভিষেককে রাখুন নয় আমাদের।'
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, "ঔদ্ধত্যের একটা সীমা আছে। দিদিকে ঠিক করতে হবে। অভিষেক বন্দোপাধ্যায়কে নিয়ে চলবেন না কি, আমার মতন সৎ পুরনোদের নিয়ে চলবেন। যদি অভিষেককে নিয়ে চলে তবে আমি আর নেই।"
বিধানসভায় সই কেলেঙ্কারি কাণ্ডে রক্ষাকবচ চেয়ে কিছুদিন আগেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আর্জিও জানিয়েছিলেন, কিন্তু লাভ হয়নি। রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা পৌঁছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উঠোনেও। সেখানে থাকার তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালান তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে গতকাল (বুধবার) অভিষেকের হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ বৃহস্পতিবার অভিষেকের হয়ে সওয়াল করার কথা ছিল তাঁরই। কিন্তু বৃহস্পতিবারই হঠাৎ জানা যায়, মামলা থেকে সরে গিয়েছেন কল্যাণ। তাঁর বদলে লড়বেন আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য। এমনকি কল্যাণ-পুত্র ও শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ এই মামলার সঙ্গে যুক্ত জুনিয়র আইনজীবীরাও মামলা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ বলেন, "ওর জন্য দলটা শেষ হয়ে গেল, তারপরও কী ঔদ্ধত্য! কাল রাত সাড়ে ১২টায় আমার ছেলেকে জানিয়েছেন আমার থাকার দরকার নেই অয়ন ভট্টাচার্য থাকবেন। তো আমি মামলা ছেড়ে দিয়েছি।" তিনি বলেন, 'আমি অভিষেকের সঙ্গে নেই। ওর উদ্ধত মেনে নেব না।' কল্যাণের স্পষ্ট কথা, "আমি মমতা দিকে বলব, হয় অভিষেককে রাখুন, আমাদের ছেড়ে দিন। নয় আমাদের রাখুন, অভিষেককে সরান।”
উল্লেখ্য, ছাব্বিশের নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের দল ভেঙে খান খান হয়ে হচ্ছে। নিচু তলা থেকে উঁচু তলার অনেকেই বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন। এখন হাতে গোনা কয়েকজন পুরনো নেতা রয়েছেন তাঁর পাশে। তাঁদের মধ্যে একজন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে কল্যাণও যে দল ছাড়তে পিছপা হবেন না, সেকথা আন্দাজ করাই যাচ্ছে। যদিও বল তিনি মমতার কোর্টেই ঠেলে দিয়েছেন, এখন দেখার তৃণমূল সুপ্রিমো কী পদক্ষেপ করেন। কীভাবে এই পরিস্থিতি সামলান।

No comments:
Post a Comment