নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদা: এবারে বিদ্যালয়ের শিক্ষকের ওপর চলল ডিম থেরাপি। বিদ্যালয় চত্বরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে কনডম। একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিদ্যালয় ঘেরাও করে তুমুল বিক্ষোভ গ্রামবাসীদের। ঘটনায় সোমবার ব্যাপক উত্তেজনা মালদার মানিকচক ব্লকের হরিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষককে লক্ষ্য করে ছোড়া হল একের পর এক ডিম।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই হরিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় পঠন-পাঠন হয় না। দেওয়া হয় না নিয়মিত মিড ডে মিল। প্রতিবাদ করলে নানান রকম হুমকি দেওয়া হয় বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের তরফে বলেও অভিযোগ। এমনকি পঠন পাঠনের বদলে শিক্ষকরা অন্য রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে রাখেন ঘন্টার পর ঘন্টা। পাশাপাশি কন্ডোম ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিদ্যালয় চত্বর জুড়ে। অভিযোগ, কুকর্মে যুক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের ঠিক মতো মিড ডে মিল দেওয়া হয় না। স্কুলের মধ্যে অনৈতিক কার্যকলাপ চালাচ্ছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমরুল হোসেন এবং সহকারী শিক্ষক মহম্মদ আব্দুল রহিম। স্থানীয়দের দাবী, স্কুল চত্বরে কন্ডোমও খুঁজে পেয়েছেন তাঁরা। এর পাশাপাশি, স্কুলে ঠিক মতো পড়াশোনা করানো হয় না বলেও অভিযোগে তুলেছেন তাঁরা।
নাজিরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দেবাশিস মণ্ডলের দাবী, 'পড়ুয়াদের ঠিক মতো মিড ডে মিল দেওয়া হয় না। শিক্ষকরা নিজেদের সুবিধা মতো চিকেন, মাটন নিয়ে এসে মিড ডে মিলের ঘরে রান্না করে খান।' পাশাপাশি, স্কুলের মধ্যে পড়াশোনা না হওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
তিনি এও জানান, এইসব অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কিন্তু তৎকালীন রাজ্য সরকারের প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ কিছু বলার সাহস পেতেন না। এবারে রাজ্য বিজেপি সরকার এসেছে। তাই সাহস করে সকলে প্রতিবাদে সামিল হন।
যদিও, পাল্টা অভিযোগ করেছেন স্কুলের সহকারী শিক্ষক আব্দুল রহিম। তাঁর দাবী, গ্রাম পঞ্চায়তের প্রধানের উস্কানিতে গ্রামের মানুষ এই হামলা চালিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, এ দিন তাঁকে মারধর করা হয়। উত্তেজিত জনতা ডিম ছোড়েন তাঁকে ও প্রধান শিক্ষককে লক্ষ্য করে। তিনি প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তার দাবী জানিয়েছেন।
অন্যদিকে প্রধান শিক্ষকের দাবী, পঞ্চায়েতের একটি কাজ নিয়ে তাঁর সঙ্গে মতবিরোধ হয়েছিল গ্রাম পঞ্চায়তের প্রধানের। সেই নিয়েই সমস্যা বাধে। ওই জন্যই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের নেতৃত্বে স্থানীয়রা এদিন এসে হামলা চালায় স্কুলে। এর সঙ্গে স্কুলে পঠনপাঠনের কোনও সম্পর্ক নেই।
তিনি আরও জানান, প্রতিদিন মিড ডে মিল হয়। আজ স্কুলে ৭ জন ছাত্রছাত্রী এসেছিল। সেই কারণে তিনি রান্না করতে বারণ করেছিলেন।
উল্লেখ্য, রাজ্যে পালাবদলের পরে একাধিক তৃণমূল নেতাকর্মীদের ওপরে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন মানুষ। তাঁদের গাড়িতে কিংবা সরাসরি তাঁদের উপরেই ডিম ছুড়তে দেখা যাচ্ছে বিক্ষুব্ধদের। এর পাশাপাশি একাধিক স্কুল-কলেজে মদের বোতল, কন্ডোম, রাশি রাশি টাকা উদ্ধারের ঘটনাতেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এবারে সেই তালিকায় জুড়ল মালদার এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুর্নীতি।

No comments:
Post a Comment