কলকাতা: আগুনে পুড়ছে ঘর, ভেঙে চৌচির হওয়ার পথে স্বাদের দল। এই আবহেই মঙ্গলবার সোনিয়া সাক্ষাতে মমতা। কী কথা হল দুই নেত্রীর? দিল্লীতে সোনিয়ার বাসভবনে এই বৈঠক ঘিরে দেশের রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা। সোমবারই ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে বিরোধী ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার বার্তা দেওয়া হয়েছিল। সেই বৈঠকে সোনিয়া ও মমতার উষ্ণ আলিঙ্গন রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়েছিল। তার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই পৃথক বৈঠক হওয়ায় জল্পনা আরও বেড়েছে।
সূত্রের খবর, ইন্ডিয়া জোটের ভবিষ্যৎ কৌশল, সংসদের আসন্ন অধিবেশন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী শিবিরের সমন্বিত অবস্থান নিয়ে আলোচনা হয়েছে দুই নেত্রীর মধ্যে। আরও খবর, সোনিয়ার বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মমতা বলেছেন যে, ইন্ডিয়া জোটকে আরও মজবুত করতে হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বার্তার মাধ্যমে তিনি বিরোধী শিবিরের মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য ও সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধী শিবিরে সমন্বয়ের অভাব লক্ষ্য করা গিয়েছে, বিভিন্ন রাজ্যে আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে কংগ্রেসের মতপার্থক্য এবং জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেই পরিস্থিতিতে মমতার এই বার্তা বিরোধী ঐক্য অটুট রাখার আহ্বান। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, বিজেপির বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াই গড়ে তুলতে হলে শুধুমাত্র বৈঠক নয়, মাঠপর্যায়েও জোটের সমন্বয় ও রাজনৈতিক বোঝাপড়া বাড়াতে হবে। বিরোধী রাজনীতিতে মমতার মন্তব্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে, রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত, আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল তৃণমূলের বর্তমান সাংগঠনিক পরিস্থিতি। বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই দলের একাধিক সাংসদ ও নেতার অবস্থান নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। দলের অন্দরে অসন্তোষ এবং সম্ভাব্য বিদ্রোহের আবহে কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে তৃণমূল নেতৃত্ব। বৈঠক শেষে যদিও দুই দলের পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
কিন্তু ভাঙাচোরার এই আবহে বিরোধী রাজনীতির নতুন সমীকরণ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। আর মমতা-সোনিয়া বৈঠককে নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ বলে মানতে নারাজ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটা বড় অংশ। তবে, ঠিক কী ঘটতে চলেছে, সেই উত্তর আপাতত ভবিষ্যতের গর্ভে।

No comments:
Post a Comment