জুটমিলে চাকরি হারিয়ে তারাতলায় কাজে যোগ! কৃষ্ণার মৃত্যুতে শোকে পাথর মা, ভাটপাড়ায় স্তব্ধতা - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, June 24, 2026

জুটমিলে চাকরি হারিয়ে তারাতলায় কাজে যোগ! কৃষ্ণার মৃত্যুতে শোকে পাথর মা, ভাটপাড়ায় স্তব্ধতা

 


কলকাতা: তারাতলায় গোডাউনের ছাদ ভেঙে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা প্রাণ কেড়েছে কৃষ্ণা চৌধুরীর। তিনি ভাটপাড়া পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বাশা এলাকার বাসিন্দা। তাঁর মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা এলাকাজুড়ে। খবর শোনার পরই প্রতিবেশী ও পরিজনেরা ভিড় জমান মৃতের বাড়িতে। 


জানা গিয়েছে, মৃত কৃষ্ণা চৌধুরী পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন। তাঁর আয়েই চলত সংসার। আচমকা এই দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যুতে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবার। স্বাভাবিকভাবেই ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন পরিবারের সদস্যরা। শোকে পাথর কৃষ্ণার মা। 


স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাটপাড়া পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বাশা এলাকার বাসিন্দা কৃষ্ণা দীর্ঘদিন ভাটপাড়ার জুটমিলে কাজ করতেন। প্রায় ছ'মাস আগে ছাঁটাই হওয়ার পর থেকেই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে পরিবার। বৃদ্ধা মা-সহ পরিবারের একাধিক সদস্য তাঁর আয়ের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। সংসারের খরচ চালাতে জুটমিলের বাইরে বিভিন্ন ধরণের শ্রমের কাজ করতে শুরু করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা জানান, দু'দিন আগে তারাতলার একটি পাইপলাইন প্রকল্পে ওয়েল্ডিংয়ের কাজে যোগ দিয়েছিলেন কৃষ্ণা। এদিন তারাতলার সেই কারখানার গোডাউনের ছাদ ভেঙে পড়লে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন একাধিক শ্রমিক। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন কৃষ্ণা। পরে তাঁর মৃত্যুর খবর পৌঁছয় বাড়িতে। 


মৃতের ভাই সরবান চৌধুরী বলেন, "আমাদের এখনও দেহ দেখতে দেওয়া হয়নি। পুলিশ সমস্ত নথিপত্র তৈরি করে রাখতে বলেছে।” স্থানীয় বাসিন্দা অমিত সাউ জানান, জুটমিলের চাকরি হারানোর পর কৃষ্ণা বিভিন্ন জায়গায় শ্রমিকের কাজ করতেন। মাল বহনের কাজ-সহ যে কাজ মিলত, সেটাই করতেন। তাঁর কথায়, “খুবই ভদ্র এবং পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন। পরিবারের সব দায়িত্ব একাই সামলাতেন। ওঁর মৃত্যুতে পরিবারটা একেবারে অসহায় হয়ে পড়ল।”


এই মর্মান্তিক ঘটনায় ভাটপাড়ার পূর্বাশা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয়দের দাবী, মৃতের পরিবারের পাশে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত দাঁড়ানো উচিৎ। একমাত্র রোজগেরে মানুষকে হারিয়ে পরিবার এখন গভীর সংকটের মুখে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad