কলকাতা: পদত্যাগ করলেন উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি পার্থ কর্মকার। বৃহস্পতিবার তিনি স্কুলশিক্ষা দফতরের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের এক মাসেরও বেশি সময় পর তাঁর এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। পার্থ কর্মকার জানান, এরপর সরকার যে দায়িত্ব দেবে, তিনি সেটাই পালন করবেন।
ঘটনাচক্রে আবার এদিনই বিকাশ ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানান, পূর্বতন সরকারের আমলে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মনোনীত পদাধিকারীদের সরে দাঁড়ানো উচিৎ। তিনি বলেন, "কলেজ পরিচালন সমিতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসমিতিতে থাকা অনেকেই ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন। যাঁরা এখনও পদে রয়েছেন, তাঁদেরও স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া উচিৎ।"
প্রসঙ্গত, গত ৯ মে শুভেন্দু অধিকারী সরকার শপথ গ্রহণের পরই বিদায়ী সরকারের মনোনীত পদাধিকারীদের পদত্যাগের নির্দেশিকা জারি করা হয়। সেইসঙ্গে রাজ্যের সমস্ত কলেজের পরিচালন সমিতিও ভেঙে দেওয়া হয়।
চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার শেষ দিন তৎকালীন তৃণমূল সরকার সংসদের সভাপতি পদে পরিবর্তন আনে। সেই সময়ের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যকে সরিয়ে পার্থ কর্মকারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরীক্ষা প্রক্রিয়া তখনও সম্পূর্ণ শেষ হয়নি। প্র্যাকটিক্যাল-সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব বাকি থাকায় সেই সময় এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছিল।
এরপর রাজ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর আগের সরকারের মনোনীত বিভিন্ন পদাধিকারীকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশের পর মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, স্কুল সার্ভিস কমিশন-সহ একাধিক সংস্থার চেয়ারম্যান ও সভাপতিরা পদত্যাগ করলেও পার্থ কর্মকার দায়িত্বে বহাল ছিলেন। কারণ হিসেবে উচ্চ মাধ্যমিকের ফলপ্রকাশ এবং সংসদের বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজের বিষয়টি সামনে আসে। পার্থ কর্মকারের নেতৃত্বেই চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশিত হয়। ফলপ্রকাশের পরও তিনি প্রায় এক মাস সংসদের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার তাঁর পদত্যাগের খবর সামনে আসে।
এর আগে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব পদ থেকেও সরে যেতে হয়েছিল প্রিয়দর্শিনী মল্লিককে। তিনি তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মেয়ে।
তৃণমূল সরকারের আমলে পছন্দের ব্যক্তিদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে কার্যত কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছিল বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতার পরিবর্তনের পর বিজেপি সরকার সেই ব্যক্তিদের আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তগ্রহণকারী পদে রাখতে আগ্রহী নয় বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।

No comments:
Post a Comment