কলকাতা: দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে কলকাতার রেড রোডে যোগাভ্যাস প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। এদিন তাঁকে বেশ কয়েকটি আসন অনুশীলন করতে দেখা যায়। যোগাভ্যাসে অংশগ্রহণ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। বেশ কয়েকটি যোগাসন করার পর প্রধানমন্ত্রী ঘুরে ঘুরে বাকিদের অনুশীলন দেখেন। কয়েকজনের যোগাসন করার ভঙ্গি শুধরে দিতেও দেখা যায় তাঁকে। এদিন বিশ্বের উন্নতিতে যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা স্মরণ করান তিনি।
১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, '২১ জুন পৃথিবীর একাংশে সবথেকে লম্বা দিন। কিন্তু যোগ দিবস হিসেবে মান্যতা পাওয়ার পরে তাঁর গুরুত্ব আরও বেড়ে গিয়েছে। যোগ সবাইকে জুড়ে দেয়। এখন ২১ জুন বিশ্বের সবচেয়ে বড় পার্বণে পরিণত হয়েছে। যোগ দিবস পালনে কলকাতায় আসতে পেরে আমার নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছে।'
রেড রোড থেকে দেশ ও বিশ্বের উদ্দেশ্যে বিশেষ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর কথায়, 'যোগ শুধুমাত্র শরীরচর্চা নয়, এটি মানুষে মানুষে সংযোগ তৈরির শক্তি এবং মানবতার ঐক্যের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।' ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, বাংলার সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার এবং বিশ্বব্যাপী যোগচর্চার গুরুত্বো এদিন স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। উন্নত ও সুস্থ ভবিষ্যৎ গঠনের জন্য যোগের চর্চাকে আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান তিনি। দেন সুস্থ বার্ধক্যেরও মন্ত্র।
নিজের বক্তব্যে একাধিকবার যোগাভ্যাসের উপকারিতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি জানান, নিয়মিত যোগাভ্যাস করলে বার্ধক্যেও সুস্থ থাকা যায়। বয়স মানুষের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়। কিন্তু যোগ সেই কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। তাঁর কথায়, “৩০ বছর বয়সে আমরা যতটা প্রাণবন্ত ছিলাম তার থেকে বেশি প্রাণবন্ত ৫০ বছর বয়সে থাকতে হবে। এটাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিৎ। যোগার কারণে আমাদের এনার্জি সব সময় বেশি থাকে। এছাড়াও যোগাভ্যাস শান্ত ও চিন্তামুক্ত জীবনযাপন করতে সাহায্য করে।”
এবার কলকাতার রেড রোডে অনুষ্ঠিত এই বৃহৎ কর্মসূচিতে সামিল হন ৩৫ হাজার সাধারণ মানুষ। তাঁদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'কলকাতাবাসী স্বচ্ছতার সঙ্গে অভ্যর্থনা জানিয়েছে। এতে নাগরিক কর্তব্য পালনে বহু পরিশ্রম করতে হয়েছে। এই উদ্যোগ ও উদ্যম অত্যন্ত প্রশংসনীয়।'
যোগ দিবসের এমন জমকালো আয়োজনের প্রশংসায় মোদী বলেন, 'আজ মনে হচ্ছে শুধু দেশ নয়, গোটা বিশ্ব যেন এক সুতোয় বাঁধা পড়েছে। এটাই যোগের শক্তি। যোগ সবাইকে যুক্ত করে, সবাইকে একত্রিত করে।'
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'বাংলার সঙ্গে যোগ ও আধ্যাত্মিকতার গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। শ্রী অরবিন্দ, স্বামী বিবেকানন্দ এবং শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণের ভূমি পশ্চিমবঙ্গ। তাই এখানে যোগ দিবসের অনুষ্ঠান আরও গুরুত্বপূর্ণ।'
উল্লেগ্য, ২০১৪ সালের ১১ ডিসেম্বর যোগ দিবসকে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ। এরপর থেকে বিশ্বজুড়ে ২১ জুন তারিখ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment