দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ২০ জুন ২০২৬: ফলতা থানা এলাকায় উত্তেজনা ছড়ানো ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আজ (শনিবার) সকালে জাহাঙ্গীর খানের স্ত্রী সারিকা বিবিকে গ্রেফতার করল পুলিশ। সূত্রের খবর, জুলপিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাকে। স্বামী জাহাঙ্গীরকে থানা থেকে জোর করে ছাড়ানোর ষড়যন্ত্র এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল এই সারিকা বিবির বিরুদ্ধে।
আগেই তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছিল। ফলতায় স্বঘোষিত ‘পুষ্পা’ ওরফে জাহাঙ্গীর খানকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার ঘটনায় জাহাঙ্গীরের স্ত্রীর বিরুদ্ধে অস্ত্র, বিস্ফোরক-সহ একাধিক ধারায় নতুন করে মামলা রুজু করে ফলতা থানার পুলিশ। তারই ভিত্তিতে আজ জালে সারিকা বিবি।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার পুলিশ জাহাঙ্গীরকে কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় প্রকাশ্যে হাঁটিয়ে নিয়ে যায় । জাহাঙ্গীরকে কেন এভাবে কোমরে দড়ি বেঁধে রাস্তায় ঘোরানো হচ্ছে? এমন প্রশ্ন তুলে আপত্তি তোলেন এলাকার একাংশ। অবিলম্বে তাঁর মুক্তির দাবীও জানানো হয় তাঁদের তরফে। সেই দাবীতে বিভিন্ন এলাকায় পথ অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। অভিযোগ, থানা ঘেরাওয়ের পরিকল্পনাও ছিল বিক্ষোভকারীদের। জাহাঙ্গীরের স্ত্রী ঘেরাও কর্মসূচির প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন তাঁরা। তবে পরে পুলিশ চড়াও হতেই ছত্রভঙ্গ হয়ে পালায় বিক্ষোভকারীরা।
পরবর্তীতে পুলিশি তদন্তে উঠে আসে পুরোটাই ছিল পূর্ব পরিকল্পিত। তদন্তে এও জানা যায়, ঘটনার আগের দিন জাহাঙ্গীরের স্ত্রীর নেতৃত্বে একটি বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ফলতা থানা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে একটি নির্দিষ্ট স্থানে সমর্থকদের জড়ো করা হবে। এরপর সেখান থেকে সংগঠিত ভাবে থানায় হামলা চালিয়ে জাহাঙ্গীর খানকে ছাড়িয়ে আনার ছক কষা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
এরপর গত বুধবারেই ফলতায় জনকল্যাণ শিবিরে গিয়ে এই ঘটনা প্রসঙ্গে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন, “কোনও গুন্ডামি, জঙ্গিপনা বরদাস্ত করা হবে না। যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। থানায় হামলা চালানোর ঘটনায় ভিডিওতে যাঁদের গিয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের ধারায় মামলা রুজু করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই হুঁশিয়ারির কয়েক ঘন্টার মধ্যেই জাহাঙ্গীরের স্ত্রীর বিরুদ্ধে অস্ত্র এবং বিস্ফোরক নতুন করে মামলা রুজু করা হয় ফলতা থানায়।
প্রসঙ্গত, জাহাঙ্গীর খান ডায়মন্ড হারবারের ফলতা বিধানসভা আসন থেকে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন। তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে জানা যায়। ফলতায় নির্বাচনের দিনে অনিয়মের কারণে পুনঃভোট অনুষ্ঠিত হয়। পুনঃভোটের আগেই জাহাঙ্গীর খান সরে দাঁড়ান। জাহাঙ্গীরের সরে দাঁড়ানোর ফলে ফলতা বিধানসভা আসনেও বিজেপির বিপুল ভোটে জয় হয়, এর পর থেকেই জাহাঙ্গীরের দেখা মিলছিল না।
বেশ কয়েকদিন আত্মগোপনে থাকার পর ৮ই জুন নেপাল সীমান্ত থেকে জাহাঙ্গীর খানকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তিনি নেপালে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। গ্রেফতারের পর পুলিশ জাহাঙ্গীর খানকে জনসমক্ষে হাজির করে, যেখানে তাঁকে পুলিশি ব্যারিকেডের মধ্যে দিয়ে রাস্তায় হাঁটাতে দেখা যায়। এবারে পুলিশের জালে জাহাঙ্গীর খানের স্ত্রী।

No comments:
Post a Comment