'যৌ-নপল্লীর মতো ভাষা, ছেলেকে জেতাতে পারলেন না কেন?' কল্যাণকে ঝাঁঝালো আক্রমণ রচনার - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, June 29, 2026

'যৌ-নপল্লীর মতো ভাষা, ছেলেকে জেতাতে পারলেন না কেন?' কল্যাণকে ঝাঁঝালো আক্রমণ রচনার


কলকাতা: কর্মীসভা থেকে একদিন আগেই রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি তাঁকে বিশ্বাসঘাতকতা তকমা পর্যন্ত দিয়েছেন তিনি। এবার পাল্টা কল্যাণকে ঝাঁঝালো আক্রমণ রচনার। শুধু তাই নয়, একই সঙ্গে নিশানা করলেন সাংসদ মহুয়া মৈত্রকেও। 


এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রীতিমতো গর্জে ওঠেন রচনা। প্রথমে তিনি বলেন, “হাওয়ার্ড থেকে পড়াশোনা করে আসা সাংসদের মুখের কী ভাষা। ওঁকে কেন পার্লামেন্ট থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল? ধোয়া তুলসি পাতা ও নয়।” এরপরেই রচনার নিশানায় কল্যাণ। হুগলির সাংসদ বললেন, পার্লামেন্টের ভিতরে একজন সিনিয়র সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কী ভাষায় কথা বলছেন মহুয়া মৈত্রের সঙ্গে। যে শব্দ ব্যবহার করেছেন তা উত্তর কলকাতার ব্রথেলে (যৌনপল্লী) ব্যবহার করা হয়। সেই শব্দ ব্যবহার করে সংসদের মধ্যে চিৎকার করে-করে আক্রমণ করছেন।”


এখানেই শেষ নয়, তিনি আরও বলেন, “অন্য দলের লোক এসে বলেছে আপনারা এসব বলবেন না। আপনাদের দলের বদনাম হচ্ছে। এই রকম ভাবে অপমান একজন মহিলাকে। ওঁর মুখের ভাষা খারাপ। এবার সেই ভদ্রলোকের সঙ্গে মহুয়া এক গাড়ি থেকে নামছেন। এরা আবার নীতির কথা বলেন?” 


একটা সময় মহুয়া-কল্যাণের দ্বৈরথ দেখেছে বাংলা। তৃণমূলের এই দুই সাংসদ একে অপরকে কী কী ভাষায় আক্রমণ করেছেন তা সকলের জানা। কল্যাণের বিরুদ্ধে এফআইআর করতে থানায় পর্যন্ত ছুটে যান মহুয়া। আবার কল্যাণ মহুয়াকে ভার্সেটাইল ইন্টারন্যাশনাল লেডি বলে খোঁচা দিয়েছিলেন। সেই ছবি যদিও বর্তমানে বদলেছে। অনেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়লেও এই দুই সাংসদ দিদির সঙ্গেই রয়েছেন। দুজনের মধ্যে ভাবও দেখা গিয়েছে। একই গাড়িতে দুজনকে ওঠানামা করতে দেখা গিয়েছে। সেই নিয়েই খোঁচা দিলেন রচনা। 


শ্রীরামপুরের সাংসদ হওয়া সত্ত্বেও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কেন বারবার হুগলি লোকসভা এলাকায় এসে হস্তক্ষেপ করছেন, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন রচনা। কল্যাণকে সরাসরি নিশানা করে তিনি বলেন, 'কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার নিজের সাংসদীয় এলাকা ছেড়ে এসে আমার এলাকায় মাতব্বরি করে। উনি বলেন আমি নাকি হুগলির ভূগোেল জানি না! আচ্ছা, আপনি তো সব জানেন দাদা, আপনি তো হুগলির ভূগোল খুব ভালোই জানেন। তাহলে নিজের ছেলেকে কেন উত্তরপাড়া থেকে জেতাতে পারলেন না?'


প্রসঙ্গত, শনিবার হুগলিতে তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে সভা করতে গিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেন, “এই রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলছে, শুধু কি তৃণমূলের জন্য জিতেছি? আমি তো আমার জন্যও জিতেছি। বলি শুনুন, আপনার কোনও দাম নেই। অভিনেত্রী দিদি নম্বর ১ বলে লোকে একটু ভিড় করে দেখতে গিয়েছিল। ভগবানের কী খেলা। পাপ করলে তো পাপের ফল দিতে হবে। দিদি নম্বর ওয়ান থেকে দু’দিনের মধ্যে তাড়িয়ে দিয়েছে। আবার তখন বলছে, ওরা ভদ্রতা জানে না। আরে তুমি কোন ভদ্রতা জানো হে! তুমি তো বিশ্বাসঘাতক।”


সাংসদ আরও বলেন, “বড় বড় বাইট দিচ্ছে। আরে এলাকার উন্নয়ন তুমি কী করবে ভাই? তুমি তো এলাকাতেই আস না। যে এলাকাই চিনল না দু’বছরে, যাঁর হুগলি সংসদীয় ক্ষেত্রের ভৌগলিক জ্ঞান নেই। জানেই না হয়ত, সাতটা বিধানসভার নাম বলতে পারবে না। কর্মীদের নামই বলতে পারবে না। এখন শুধু আরবানার ফ্ল্যাট, বিমানবন্দর-দিল্লী আর পার্টি, এর বাইরে তো রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর কিছুই নেই।"

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad