কলকাতা: জোড়াফুল শিবিরে ফের ধাক্কা। রাজ্যসভার সাংসদ থেকে ইস্তফা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সুস্মিতা দেব। এক সপ্তাহের মধ্যে এনিয়ে তৃণমূলের দু'জন রাজ্যসভার সাংসদ পদত্যাগ করলেন। সোমবার ইস্তফা দিয়েছেন সুখেন্দু শেখর রায়। এমনকি দলও ছেড়েছেন তিনি। আর বুধবার সকালেই পদত্যাগ করলেন সুস্মিতা। শুধু সংসদীয় পদই নয়, জোড়াফুল শিবিরের সমস্ত দলীয় পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন তিনি।
সুস্মিতা দেব আগে কংগ্রেসে ছিলেন। আসামের শিলচর থেকে কংগ্রেসের লোকসভার সাংসদ ছিলেন। ২০১৯ সালের ভোটে পরাজয়ের পরে দলত্যাগ করেছিলেন তিনি। এরপর ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছিলেন। দলের জাতীয় মুখপাত্র হন এবং পরে রাজ্যসভাতেও স্থান পান সুস্মিতা। উত্তর-পূর্বে দলের বিস্তার ও জাতীয় স্তরে দলের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমানে জোড়াফুল শিবিরের কঠিন সময়ে তাঁর এই আকস্মিক পদত্যাগ তৃণমূলের সংসদীয় দলে ফাটলের জল্পনা যেন উস্কে দিল।
বাংলার বাইরে থেকে সুস্মিতাকে এনে রাজ্যসভার টিকিট দেওয়ায় সেই সময়ে বাংলার আদি তৃণমূল নেতাদের অন্দরে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তিনিও কঠিন সময় দলের পাশ থেকে সরে দাঁড়ালেন।
রাজ্যসভায় এতদিন তৃণমূল কংগ্রেসের মোট ১৩ জন সাংসদ ছিলেন। কিন্তু সোমবার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন সুখেন্দু শেখর রায়। দলও ছাড়েন তিনি। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ইস্তফা দিলেন সুস্মিতা দেব। পর পর এই দুই হেভিওয়েটের পদত্যাগের জেরে রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা কমে দাঁড়াল ১১ জনে। তবে এখানেই শেষ নয়; সূত্রের খবর, এই দুই সাংসদ ছাড়াও রাজ্যসভা থেকে তৃণমূলের আরও বেশ কয়েকজন সাংসদ খুব শীঘ্রই পদত্যাগ করতে পারেন।
উল্লেখ্য, পরিষদীয় দল ইতিমধ্যেই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতছাড়া হয়েছে। সংসদীয় দলও একই পথে। ফলত তৃণমূলের প্রতীকটাই মমতার হাতছাড়া হতে পারে বলে জল্পনা তীব্র হচ্ছে। এরই মাঝে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে রাজ্যসভার দুই সাংসদের ইস্তফা তৃণমূলের ঘর পোড়ার ইঙ্গিত আরও স্পষ্ট করে দিল।


No comments:
Post a Comment