কলকাতা: যাঁতাকলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারে সুদূর ত্রিপুরা থেকে এল সমন। ত্রিপুরার খোয়াই আদালত থেকে অভিষেককে সমন পাঠানো হয়। তাঁকে সশরীরে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সমন আলিপুর আদালতে পাঠানো হয়। আদালতের তরফে জানানো হয়, ওই নোটিশটি অভিষেকের হাতে পৌঁছে দিতে হবে। নইলে তাঁর বাড়ির দরজায় নোটিশ লাগিয়ে দিয়ে আসতে হবে।
আদালতের নির্দেশমতো বুধবার পুলিশ পৌঁছয় হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িতে। অভিষেক বর্তমানে দিল্লীতে রয়েছেন। তাঁর পরিবর্তে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ নোটিশটি গ্রহণ করেন।
২০২১ সালের আগস্টের গোড়ার দিকে দলীয় এক কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় ত্রিপুরায় তৃণমূলের যুব নেতৃত্বকে রাস্তায় আটকানো হয়। সেখানে দেবাংশু ভট্টাচার্য, সুদীপ রাহা ও জয়া দত্তদের ওপর হামলা চলে বলে অভিযোগ। মাথা ফেটে যায় সুদীপ রাহার, কানে আঘাত পান জয়া দত্ত। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। কার্যত গোটা ত্রিপুরা অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।
এরপরই তাঁদের গ্রেফতার করা হলে খোয়াই থানায় অবস্থানে বসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষরা। ধৃতদের মুক্তির দাবী তোলেন তাঁরা। কিন্তু জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের হওয়ায় ধৃত নেতাদের তোলা হয় আদালতে। সেই সময়ও থানাতেই বসেছিলেন অভিষেক। সেখান থেকেই নজর রাখছিলেন পরিস্থিতির ওপর। এরপর দলের নেতারা জামিন পাওয়ার পর তিনি ক্ষোভ উগড়ে দেন ত্রিপুরার বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে।
একইভাবে জয়া দত্ত, দেবাংশু ভট্টাচার্যও ত্রিপুরা সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন। হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এভাবে তাঁদের রোখা যাবে না। সেদিন থানায় তৃণমূলের অবস্থানের জেরেই মামলা রুজু করে ত্রিপুরা পুলিশ। ওই মামলাতেই এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমন পাঠাল খোয়াই আদালত।
উল্লেখ্য, তৃণমূলের অন্দরে এখন আগুন। ভাঙনের মুখে দলটি। এরই মধ্যে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ সামনে আসছে। অস্বস্তি বাড়িয়েছে সই কেলেঙ্কারি কাণ্ড। পরপর তিনবার সিআইডি হাজিরা এড়িয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার বিকেল ৫ টায় তৃতীয় সমনের ডেডলাইন ছিল। তা সত্ত্বেও দিল্লী থেকে ফেরেননি তিনি। গত শনিবারেই দিল্লীতে উড়ে গিয়েছিলেন অভিষেক। কারণ, ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক। সেই বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। আর এই দিল্লীতে থাকাকে হাতিয়ার করে তৃতীয়বার সিআইডি হাজিরা এড়িয়ে যান অভিষেক। পাশাপাশি হাইকোর্টে মামলার শুনানি রয়েছে বলেও জানান। সিআইডিকে চিঠি দিয়ে সময় চেয়ে নেন। অন্যদিকে ইডির নোটিশ তো রয়েইছে। এই আবহেই আবার ত্রিপুরা থেকে এল সমন।

No comments:
Post a Comment