হুগলি: তৃণমূলের অন্দরের বিভাজন যেন ক্রমশই তীব্র হয়ে উঠছে। একপক্ষ আরেক পক্ষেকে ব্যক্তিগত আক্রমণও শানাচ্ছেন। এবারে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিশ্বাসঘাতক বলে আক্রমণ করলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি কল্যাণের নিশানায় এদিন ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, মিতালী বাগ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা, জাভেদ খানেরাও।
রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হতেই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে কয়েকজন বিক্ষুব্ধ সাংসদ এনসিপিআই-তে মিশে যাচ্ছেন। সেই তালিকায় নাম আছে রচনারও। শনিবার হুগলিতে তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে সভা করতে গিয়ে কল্যাণের কটাক্ষ, “এই রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলছে, শুধু কি তৃণমূলের জন্য জিতেছি? আমি তো আমার জন্যও জিতেছি। বলি শুনুন, আপনার কোনও দাম নেই। অভিনেত্রী দিদি নম্বর ১ বলে লোকে একটু ভিড় করে দেখতে গিয়েছিল। ভগবানের কী খেলা। পাপ করলে তো পাপের ফল দিতে হবে। দিদি নম্বর ওয়ান থেকে দু’দিনের মধ্যে তাড়িয়ে দিয়েছে। আবার তখন বলছে, ওরা ভদ্রতা জানে না। আরে তুমি কোন ভদ্রতা জানো হে! তুমি তো বিশ্বাসঘাতক।”
সাংসদ আরও বলেন, “বড় বড় বাইট দিচ্ছে। আরে এলাকার উন্নয়ন তুমি কী করবে ভাই? তুমি তো এলাকাতেই আস না। যে এলাকাই চিনল না দু’বছরে, যাঁর হুগলি সংসদীয় ক্ষেত্রের ভৌগলিক জ্ঞান নেই। জানেই না হয়ত, সাতটা বিধানসভার নাম বলতে পারবে না। কর্মীদের নামই বলতে পারবে না। এখন শুধু আরবানার ফ্ল্যাট, বিমানবন্দর-দিল্লী আর পার্টি, এর বাইরে তো রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর কিছুই নেই।"
কল্যাণের কথায়, "এখন ও ডাকলে পাঁচটা লোক পর্যন্ত যাবে না। এখন পেপারওয়ালা আর দুধওয়ালা ছাড়া কেউ ওঁর বাড়িতে যাচ্ছে না।” যেদিন থেকে বিদ্রোহী সাংসদদের দলে গেছেন, হুগলিতে নিজের সংসদীয় এলাকায় রচনা ঢোকেননি বলেও তোপ দাগেন কল্যাণ।
তবে, এই বিষয়ে রচনার কোনও প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

No comments:
Post a Comment