কাটছে না তৃণমূলের শনির দশা! ভাঙনের আবহে উঠেই গেল বাইপাসের কার্যালয় - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, June 17, 2026

কাটছে না তৃণমূলের শনির দশা! ভাঙনের আবহে উঠেই গেল বাইপাসের কার্যালয়


কলকাতা: কথায় বলে খারাপ সময় যখন আসে, তখন চারিদিক থেকে আসে। তৃণমূলের ক্ষেত্রেও এটাই হচ্ছে। গৃহদাহ তো ছিলই, এবার বাইপাসের ধারে প্রধান দলীয় কার্যালয়টাও গেল। ইতিমধ্যেই মালিক ওই বাড়িটির দখল নিয়েছেন। এই প্রক্রিয়া শেষ হলেই কলকাতায় কালীঘাটের বাইরে তৃণমূলের আর কোনও ‘প্রধান কার্যালয়’ থাকবে না। 


গত কয়েকদিন ধরেই অল্পবিস্তর চলছিল এই প্রক্রিয়া। মঙ্গলবার ভাড়ায় নেওয়া বাইপাসের ধারের ওই বাড়ির চার ও পাঁচতলা খালি করার কাজ শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, এই দুটি তলা তৃণমূলকে ভাড়াও দেননি মডার্ন ডেকরেটরসের মালিক মন্টু সাহা। দেওয়া হয়েছিল প্রথম তিনটি তলা। কিন্তু উপরের দুটি তলাতেও দলীয় কাজ চলতো। এদিন মন্টু সাহা তাঁর ছেলে-বউমার সঙ্গে ‘তৃণমূল ভবন’ গিয়েছিলেন। সেখানেই একাধিক নেতার সঙ্গে কথা হয়। তারপর চার ও পাঁচতলায় গিয়ে তাঁর ছেলে অমিত ও তাঁর স্ত্রী দাঁড়িয়ে থেকে ঘর খালি করার প্রক্রিয়ার তদারকি করেন। সরিয়ে নেওয়া হয় দলের পোস্টার, ব্যানার, চেয়ার। পরিবারটির দাবী, তৃণমূলের তরফে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে নিচের তলাগুলিও খালি করে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। 



২০২২-এ মেট্রোপলিটান বাইপাসের কাছে এই বাড়ি ভাড়া নেওয়া হয় দলের সদর দফতর চালানোর জন্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ওই বছরের মে মাসে একেবারে পুজো, যজ্ঞ করে এই বাড়ি থেকে দলীয় কার্যালয়ের সূচনা করেন। বাড়িতে ছিল লিফট, বৈঠকের জন্য ছোট ছোট ঘর, সিসিটিভি, ঢালাও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একেবারে কর্পোরেট ধাঁচে চলত তৃণমূল এই দলীয় কার্যালয়। 


মন্টু সাহার পরিবার সূত্রে দাবী, ২০২৫ পর্যন্ত এই বাড়ি ভাড়া দেওয়া ছিল তৃণমূলকে। কিন্তু তারপর মুখে বলে কয়েক মাসের জন্য বাড়িটি তারা রেখে দিয়েছিলেন। তারও মেয়াদ ফুরিয়েছে। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের একটি অংশের দাবী, চলতি বছর মে মাস পর্যন্ত ভাড়া মেটানো রয়েছে এই বাড়ির। গত কয়েকদিন ধরে বাড়ির অধিকার ফিরে পেতে একাধিকবার হন্যে দিয়ে বসে থাকতে হয়েছে মালিককে। সেই ছবি সামনেও এসেছে। সোমবার তিনি দলের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যর সঙ্গে দেখা করেছিলেন এই বাড়িতেই। মঙ্গলবারও যান। কয়েকজনের সঙ্গে কথার ফাঁকে তৃণমূলের এই পরিণতি নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করেন বলেও একটি সূত্রের দাবী। 


ভোটে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলের শনির দশা চলছে। মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন তাবড় তাবড় নেতারা। মমতার দীর্ঘদিনের সঙ্গীরাও আজ বিরূপ প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন দলেরই বিরুদ্ধে। এই আবহে বাইপাসের ধারের এই কার্যালয়টিও হারাল তৃণমূল।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad