ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ১১ জুন ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা আরও একটি বড় ধাক্কা খেয়েছে। বুধবার মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিতে নতুন করে ভয়ঙ্কর বিমান হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, ইরানের ক্রমবর্ধমান ও অযৌক্তিক আগ্রাসনের জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে, ইরানের দক্ষিণ উপকূলের বন্দর আব্বাস, সিরিক এবং মিনাব শহরে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
এই নতুন সামরিক সংঘাত শুরু হয় সোমবার, যখন হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি হেলিকপ্টারটি গুলি করে ভূপাতিত করার জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করেছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা আধিকারিকদের মতে, হেলিকপ্টারটি একটি ইরানি ড্রোনের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। তবে, একটি অত্যাধুনিক ড্রোন বোট ব্যবহার করে উভয় আমেরিকান পাইলটকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবিসি নিউজকে বলেন, "ইরান আমাদের হেলিকপ্টারের সঙ্গে যা করেছে, তারপর আমাদের প্রতিক্রিয়া খুব জোরালো ও শক্তিশালী হতে হতো এবং এই হামলাটি ঠিক তাই। ইরান এমন একটি শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অনেক বেশি সময় নিচ্ছে যা তাদের জন্য মঙ্গলজনক হতে পারত এবং এখন তাদের এর মূল্য দিতে হবে।"
বুধবারের সামরিক সংঘর্ষ এপ্রিল মাস থেকে কার্যকর থাকা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে পুরোপুরি ভেঙে দিয়েছে। মার্কিন বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলো হরমুজ প্রণালীর আশেপাশে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ভূমি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং রাডার ব্যবস্থাকে নিশানা করে। মার্কিন হামলার পরপরই ইরান কঠোর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জর্ডান, কুয়েত এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন দিয়ে পাল্টা হামলা চালায়। তবে, যুক্তরাষ্ট্র দাবী করেছে যে, তারা ইরানের বেশিরভাগ হামলা মাঝ আকাশেই প্রতিহত করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রকে একটি খোলা সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, "রণক্ষেত্রে পরাজিত হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সংকল্প পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী কোনও হামলা বা হুমকির জবাব না দিয়ে ছাড়বে না। আপনারা যদি নিরাপদ থাকতে চান, তবে আমাদের ভূখণ্ড ছেড়ে যান।"
সাম্প্রতিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড ঘোষণা করেছে যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী যেকোনও জাহাজকে নিশানা করা হবে। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক তেল পথ, যা দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন করা হয়। এই হুমকি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজার এবং অপরিশোধিত তেলের দামে তীব্র উল্লম্ফনের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

No comments:
Post a Comment