'২১ শে জুলাই' নিয়ে দুই তৃণমূলে দড়ি টানাটানি! চিঠি গেল পুলিশে - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, June 28, 2026

'২১ শে জুলাই' নিয়ে দুই তৃণমূলে দড়ি টানাটানি! চিঠি গেল পুলিশে


কলকাতা: নতুন-পুরনো তৃণমূল নিয়ে তরজা চলছে। কে আসল তৃণমূল সেটা নিয়েও যখন দ্বন্দ চরমে, সেই আবহে নতুন ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ নিয়ে শুরু হল দুই তৃণমূলের দড়ি টানাটানি। নিজেদের আসল বলে দাবী করে শহিদ দিবস পালনের জন্য পুলিশকে চিঠি দিল মমতার তৃণমূল ও ঋতব্রত তৃণমূল। জানা যাচ্ছে, ভিক্টোরিয়া হাউসের কাছেই ২১ জুলাই হবে। কলকাতা পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়ে কাগজপত্র ইতিমধ্যেই জমা দেওয়া হয়েছে।


অন্যদিকে কলকাতা পুলিশের কাছে এই বিষয়ে চিঠি দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। ২১ জুলাই শহীদ দিবস ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনেই পালনের অনুমতি চেয়ে পুলিশের কাছে চিঠি দেওয়া হয়। 


শনিবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল শিবির একটি বৈঠক করে। বৈঠক থেকে কাউন্সিলরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কর্মীদের প্রস্তুত করার জন্য। নিজ নিজ এলাকা থেকে যতটা সম্ভব বেশি লোক আনতে হবে এমনই টার্গেট দিয়েছেন নতুন তৃণমূলের নেতারা। এ বিষয়ে নব তৃণমূল ব্লকের কোষাধ্যক্ষ আখরুজ্জামান বলেন, "একুশে জুলাই আমাদের আবেগ। এর আগে এই দিন যা ঘটেছিল তা তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের যন্ত্রণা। এর আগে নায়ক-নায়িকাদের ভিড়ে শহিদ পরিবার মর্যাদা পায়নি। এবার আপনারা দেখবেন এই সমাবেশে সঠিক ভাবে শহিদদের শ্রদ্ধা জানানো হবে।” 


একুশে জুলাই কী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আহ্বান জানাবেন? আখরুজ্জামান বলেন, “এটা আমাদের আবেগ। সকলকে আমাদের মঞ্চে আহ্বান জানাব। প্রশাসন যেখানে আমাদের অনুমতি দেবে সেখানে করব। বরাবরই তো ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে করি। সেখানেই করার চেষ্টা করব।”


রাজ্যে পালাবদলের পরে তৃণমূল কংগ্রেসে মুষলপর্ব শুরু হয়েছে। ঋতব্রত তৃণমূল ও মমতার তৃণমূল সরাসরি দুই ভাগ হয়ে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এই মুহূর্তে রয়েছেন হাতে গোনা কয়েকজন নেতানেত্রী। তাঁর একসময়ের ছায়াসঙ্গী ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাসও বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। এমতাবস্থায় তৃণমূলের ‘মেগা ইভেন্ট’ শহীদ দিবস কীভাবে হবে, কোথায় হবে? কারা করবে? সেই চর্চা শুরু হয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। 


এইই আবহে দিন কয়েক আগে ফোনে কর্মীদের জন্য তৃণমূল সুপ্রিমো বার্তা দেন, '৫ জন লোক হলেও ধর্মতলায় যাব।' এরপরই এদিন কলকাতা পুলিশকে ‘শহীদ দিবস’ পালনের আবেদন জানিয়ে চিঠি দেওয়া হল। সংগঠন বাঁচিয়ে রাখতে একুশের মঞ্চে সম্ভবত নয়া বার্তাকে সামনে রেখে জমায়েত করতে চাইছে তৃণমূল। 


সম্প্রতি ‘আমরা বেইমান নই’ ব্যানারে আয়োজন করা কর্মীসভা থেকে মমতা ফোনো বার্তায় বলেন, ‘শহীদ স্মরণ কর্মসূচি বছর বছর ধর্মতলাতেই করে এসেছে তৃণমূল। এবারও পুলিশের অনুমতি পেলে সেখানেই সেই কর্মসূচি হবে। ৫ জন কর্মী থাকলেও মিটিংয়ে যাব।’ ২১ জুলাইয়ের সমাবেশের প্রস্তুতি মঞ্চ থেকেই মমতার বক্তব্য, ‘যাঁদের শুভবুদ্ধি আছে তাঁরা ফিরে আসুন। মনে রাখবেন যাঁরা গিয়েছেন তাঁরা না ঘরকা-না ঘাটকা। টাকার লোভে আমরা দল বিক্রি করে দিতে পারব না।’


এদিকে ২১ জুলাইয়ের সভার অনুমতি চেয়ে কলকাতা পুলিশের কমিশনারের কাছে চিঠি দিয়েছে 'ঋতব্রত তৃণমূল'। শনিবার বিদ্রোহী কাউন্সিলরদের বৈঠকে এই কথা জানিয়েও দিয়েছে তারা। অন্যদিকে, কলকাতা পুলিশের কাছেও ২১ জুলাইয়ের সভার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে 'মমতার তৃণমূল'-ও। এর পাশাপাশি এবার 'ঋতব্রত তৃণমূল' -এর বিরুদ্ধে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা। 'মমতার-তৃণমূল' -এর দাবী, তাদের নাম ও প্রতীক নিয়ে জালিয়াতি চলছে। 


ইতিমধ্যেই দোলা সেনের পক্ষ থেকে ঋতব্রত-তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোেগ জানানো হয়েছে পুলিশের কাছে। শুধু একটি থানায় এই অভিযোগ জানানো হয়েছে, এমন নয়। কালীঘাট থানা, নিউটাউন থানা, প্রগতি ময়দান থানা ও সাইবার ক্রাইম থানায় এই অভিযোগ জানানো হয়েছে 'মমতার তৃণমূল' -এর পক্ষ থেকে।


যদিও 'ঋতব্রত তৃণমূল' -এর তরফে জানানো হয়েছে, তাঁরাই আসল তৃণমূল আর তাঁরা সেই কথা নির্বাচন কমিশনেও জানিয়েছেন। এবার যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার, সেটা নির্বাচন কমিশনই নেবে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad