ব্রাশ করার সময় মাড়ি থেকে রক্ত পড়ছে? অবহেলা নয়, বাড়তে পারে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি! - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, July 30, 2026

ব্রাশ করার সময় মাড়ি থেকে রক্ত পড়ছে? অবহেলা নয়, বাড়তে পারে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি!


ব্রাশ করার সময় যদি আপনার মাড়ি থেকে রক্ত ​​পড়ে বা ক্রমাগত ফুলে থাকে, তবে এটিকে হালকাভাবে নেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন (AHA)-এর একটি নতুন গবেষণায় দাবি করা হয়েছে যে, মাড়ির রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া, পোরফাইরোমোনাস জিঞ্জিভালিস (P. gingivalis), রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডে পৌঁছাতে পারে এবং হৃৎপিণ্ডের ভালভ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

এই ব্যাকটেরিয়া কীভাবে হৃৎপিণ্ডে পৌঁছায়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাড়িতে সংক্রমণ বা রক্তপাত হলে P. gingivalis ব্যাকটেরিয়া রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে। এরপর এটি হৃৎপিণ্ডের অ্যাওর্টিক ভালভে পৌঁছে প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং সেখানে ক্যালসিয়াম জমার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। এর ফলে ভালভটি ধীরে ধীরে শক্ত ও সরু হয়ে যায়, যা ক্যালসিফিক অ্যাওর্টিক ভালভ স্টেনোসিস নামে পরিচিত। অ্যাওর্টিক ভালভ হলো হৃৎপিণ্ডের প্রধান ভালভ, যা সারা শরীরে অক্সিজেন-সমৃদ্ধ রক্ত ​​বহন করে। যখন এর উপর ক্যালসিয়ামের একটি স্তর জমে যায়, তখন ভালভটি সঠিকভাবে খুলতে পারে না।

এর ফলে যা হয়:

হৃৎপিণ্ডকে আরও বেশি পরিশ্রম করতে হয়।

হৃৎপেশী দুর্বল হতে শুরু করে।

দীর্ঘমেয়াদে, হার্ট ফেইলিওর বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

লক্ষণগুলো ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রোগের লক্ষণগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে দেখা যায় না, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে রোগীরা নিম্নলিখিত সমস্যাগুলো অনুভব করতে শুরু করেন:

দ্রুত ক্লান্তি

বুকে ব্যথা

শ্বাসকষ্ট

মাথা ঘোরা

শারীরিক কার্যকলাপে অসুবিধা

কীভাবে এটি প্রতিরোধ করবেন?

বিশেষজ্ঞরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের পরামর্শ দিয়েছেন:

দিনে অন্তত দুবার দাঁত ব্রাশ করুন।

দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার করার জন্য ফ্লস বা ইন্টারডেন্টাল ব্রাশ ব্যবহার করুন।

যদি আপনার মাড়ি থেকে ক্রমাগত রক্তপাত হয় বা মাড়ি ফুলে যায়, তাহলে অবিলম্বে একজন দন্তচিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করুন।

ধূমপান এবং তামাক সম্পূর্ণরূপে পরিহার করুন।

ডায়াবেটিস রোগীদের তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত।

আপনার খাদ্যতালিকায় ভিটামিন সি এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করুন।

গবেষণায় দেখা গেছে যে, বর্তমানে এমন কোনো ওষুধ নেই যা অ্যাডভান্সড অ্যাওর্টিক ভালভ স্টেনোসিস সম্পূর্ণরূপে নিরাময় করতে পারে। তাই, মাড়ির রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা এবং মুখের সঠিক স্বাস্থ্যবিধিই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ পদ্ধতি।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad