ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র আন্দোলন শেষ হলেও তা ঘিরে বিতর্ক থামেনি। একদিকে সংগঠনটি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে, অন্যদিকে আন্দোলনে ব্যবহৃত অর্থের উৎস নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে আন্দোলন চলাকালীন বিক্ষোভকারীদের খাবার সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত জুনাইদকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
জুনাইদের দাবি, পুরো খাবার বিতরণের দায়িত্ব তিনি একা নেননি। বিভিন্ন ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবী মিলে খাবার পৌঁছে দিয়েছিলেন এবং তিনি শুধুমাত্র সমন্বয়ের কাজ করেছেন। তবে এরই মধ্যে তার এক প্রতিবেশীর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে জুনাইদের আয় এবং আন্দোলনে হওয়া ব্যয়ের মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতির অভিযোগ তোলা হয়েছে।
প্রতিবেশীর দাবি অনুযায়ী, জুনাইদের মাসিক আয় প্রায় ২০ হাজার টাকা। তার প্রশ্ন, যদি এমন একজন ব্যক্তি টানা ২০ থেকে ২৫ দিন ধরে হাজার হাজার মানুষের জন্য প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকার খাবার ও অন্যান্য আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাহলে সেই অর্থের উৎস কী? তিনি বলেন, একজনের আয় সীমিত হলেও যদি বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় হতে দেখা যায়, তবে সেই অর্থ কোথা থেকে এসেছে তা খতিয়ে দেখা সরকারের, পুলিশের এবং আয়কর বিভাগের দায়িত্ব।
ভাইরাল ভিডিওতে প্রতিবেশী আরও দাবি করেন, "যে ব্যক্তি মাসে ২০ হাজার টাকা আয় করেন, তিনি প্রতিদিন ৮ থেকে ১২ লাখ টাকা কীভাবে ব্যয় করতে পারেন? যদি এটি তার নিজের অর্থ হয়, তাহলে সেই অর্থের উৎস কী? আর যদি অন্য কেউ অর্থ দিয়ে থাকে, তাহলে সেই অর্থ কোথা থেকে এসেছে, সেটিও তদন্ত হওয়া উচিত।"
এছাড়াও তিনি জুনাইদের বিরুদ্ধে গুরুতর ব্যক্তিগত অভিযোগ তুলে বলেন, "আমি জুনাইদকে মুসলিম-বিরোধী ও দেশ-বিরোধী বলে মনে করি। ২০-২৫ দিন ধরে ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করা কোনো সাধারণ বিষয় নয়। এত বড় ব্যয়ের অর্থ কোথা থেকে এসেছে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।"
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রতিবেশীর এই অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো কোনো সরকারি সংস্থা বা স্বাধীন তদন্তে নিশ্চিত করা হয়নি। আন্দোলনের অর্থায়ন নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওকে কেন্দ্র করে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একাংশ অর্থের উৎস নিয়ে তদন্তের দাবি তুলছেন, অন্যদিকে অনেকেই বলছেন, যথাযথ তদন্ত ও প্রমাণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।

No comments:
Post a Comment