ঘাসফুল শিবির ছেড়ে পদ্ম শিবিরে যোগ দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই সংসদীয় রাজনীতিতে বড় দায়িত্ব পেতে চলেছেন তিন প্রবীণ নেতা। সোমবার রাজ্যসভার উপনির্বাচনের জন্য বিজেপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক।
বিধানসভা সূত্রের খবর, মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিন নেতার মনোনয়নকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
গত সপ্তাহে রাজ্য বিজেপির সদর দপ্তরে শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইক। দলে যোগ দেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁদের রাজ্যসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে। আগামী চব্বিশ জুলাই এই তিনটি আসনের জন্য ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা।
দলবদল নিয়ে প্রশ্নের জবাব শমীকের
তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এর জবাবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানান, দুর্নীতি বা সিন্ডিকেটের সঙ্গে যাঁদের নাম জড়িত, তাঁদের জন্য দলের দরজা বন্ধ। তবে সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকের মতো ব্যক্তিত্বদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আলাদা।
তিনি বলেন, এই তিনজনই অভিজ্ঞ ও সম্মানিত মানুষ। তাঁদের অতীত রাজনৈতিক পরিচয়ের বদলে বর্তমান পরিচয়ই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এখন তাঁরা বিজেপির কর্মী হিসেবেই কাজ করবেন।
কেন তৃণমূল ছাড়লেন?
কিছুদিন আগে তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পাশাপাশি রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকেও ইস্তফা দেন সুখেন্দুশেখর রায়। এরপর দল ছাড়েন সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইকও।
দল ছাড়ার পর সুখেন্দুশেখর রায় প্রকাশ্যে তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি ছিল, সাম্প্রতিক নির্বাচনে দলের খারাপ ফলের পরও আত্মসমালোচনার কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং সম্পদের উৎস নিয়ে পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষার দাবি জানান।
এখন নজর মনোনয়নে
সোমবার বিধানসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন জমা দেওয়ার মাধ্যমে রাজ্যসভার উপনির্বাচনের লড়াইয়ে নামবেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক। বর্তমান বিধানসভার সংখ্যার সমীকরণ বিবেচনায় এই তিনটি আসনেই বিজেপির অবস্থান যথেষ্ট শক্তিশালী বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মত।

No comments:
Post a Comment