রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা দীর্ঘদিনের তৃণমূলের নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এবার যোগ দিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন নতুন তৃণমূল শিবিরে। দলবদলের পরই তিনি রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দল পরিচালনা এবং নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
রবীন্দ্রনাথ ঘোষের দাবি, তিনি দল ছাড়েননি, বরং তৃণমূলের আদর্শের সঙ্গেই রয়েছেন। তাঁর কথায়, উত্তরবঙ্গের অধিকাংশ তৃণমূল নেতা ও বিধায়ক যে শিবিরে রয়েছেন, সেই কারণেই তিনিও সেখানে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ও সম্মান আজও অটুট। তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বর্তমানে দলের সমস্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আদৌ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে রয়েছে কি না।
দলীয় সংগঠনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রবীন্দ্রনাথ বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের আগে বহু অভিজ্ঞ ও পুরনো নেতাকে প্রার্থী করা হয়নি। তাঁদের পরিবর্তে নতুন মুখদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, সেই সিদ্ধান্তের ফলেই দলের ভরাডুবি হয়েছে। নতুনদের অনেকেই ভোটের পর দল ছেড়ে চলে গিয়েছেন বা সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন ও সংগঠনের মাধ্যমে দলকে শক্তিশালী করা পুরনো নেতাদের গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাইরে থেকে আসা ভোটকৌশল নির্ধারণকারী দলের সদস্যরা অভিজ্ঞ নেতাদের নির্দেশ দিতেন কীভাবে কাজ করতে হবে, যা অনেকের কাছেই অসম্মানজনক বলে মনে হয়েছে।
রবীন্দ্রনাথ ঘোষের দাবি, দুই হাজার এগারো এবং দুই হাজার ষোলো সালের নির্বাচনে এ ধরনের বাহ্যিক কৌশলগত ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়নি। তাঁর মতে, পরবর্তীকালে সেই ব্যবস্থার উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার ফলেই সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং নির্বাচনী বিপর্যয় ঘটে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তোলেন তিনি। রবীন্দ্রনাথের বক্তব্য, অভিষেকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তুলনামূলকভাবে কম এবং আন্দোলনের রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নেই। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে যদি নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে, তাহলে দলের বহু পুরনো নেতা ও কর্মী আবারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে ফিরে আসতে পারেন।
নতুন শিবিরে নিজের নির্দিষ্ট দায়িত্ব সম্পর্কে এখনও কিছু জানাতে চাননি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, ঘরছাড়া কর্মীদের ফিরিয়ে আনা, রাজনৈতিকভাবে আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানো এবং যাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে বলে অভিযোগ, তাঁদের আইনি ও সাংগঠনিক সহায়তা করাই তাঁর অন্যতম অগ্রাধিকার হবে।

No comments:
Post a Comment