কলকাতা: অন্নপূর্ণা যোজনা পেতে হলে ফর্ম পূরণ করতেই হবে। আর এই ফর্মে পরিবারের যাবতীয় খুঁটিনাটি তথ্য দিতে হচ্ছে। এমনকি সন্তান কোন স্কুলে পড়ে তাও জানাতে হচ্ছে। ফলে কারা পাবেন এই প্রকল্পের সুবিধা, কারা পাবেন না, তা নিয়ে বিস্তর জল্পনা চলছেই। বুধবার ফলতার সরকারি অনুষ্ঠান থেকেই বিষয়টা খোলসা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানালেন, যাঁদের সন্তানরা সরকারি বা সরকার পোষিত স্কুলে পড়েন তাঁরা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাবেন। বেসরকারি স্কুলের ক্ষেত্রে যদি সরকারের অনুমোদন থাকে তাহলেই মিলবে ৩ হাজার টাকা।
ভোটে জিতেছেন, মুখ্যমন্ত্রী হয়েছন। আর ক্ষমতায় এসেই একে একে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালন করছেন শুভেন্দু অধিকারী। জুনেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়েছেন বহু মানুষ। এই মুহূর্তে রাজ্যজুড়ে চলছে জনকল্যাণ শিবির। সেখানে প্রতিদিন বহু মানুষ অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য আবেদন করছেন। তবে এই প্রকল্প নিয়ে সকলের মনেই হাজার হাজার প্রশ্ন। কারণ, আবেদনপত্রে গৃহকর্তা-সহ পরিবারের সকল সদস্যের যাবতীয় তথ্য দিতে হচ্ছে। জমির পরিমাণ, সন্তানের স্কুলের নাম, কোভিড টিকা সংক্রান্ত তথ্যও দিতে হচ্ছে ফর্মে। অর্থাৎ পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি বুঝে নিতে চাইছে সরকার। ফলে আমজনতার ধারণা, একটা নির্দিষ্ট আয়ের উর্ধ্বে মিলবে না অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা। ফলতা থেকে বুধবার এই বিষয়টাই স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আগের সরকারের এই ধরণের যে প্রকল্প ছিল তাতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। মুর্শিদাবাদে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি পুরুষ প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছিলেন। সেই কারণেই আমরা একটু সতর্ক হয়ে বাছাই করে নিচ্ছি। ইতিমধ্যেই ১ কোটির বেশি আবেদন পত্র জমা পড়েছে।” এরপরেই তিনি বলেন, “যাদের বাচ্চারা সরকার বা সরকার পোষিত স্কুলে পড়ে তাঁরা পাবেন।"
পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "বেসরকারি স্কুলের ক্ষেত্রেও টাকা মিলবে তবে সেক্ষেত্রে সরকার অনুমোদিত হতে হবে সেই বিদ্যালয়। কিন্তু ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হয়, ভারত বিরোধী কথা শেখানো হয়, এমন স্কুলের পড়ুয়াদের অভিভাবকরা টাকা পাবেন না।কারণ ওই পড়াশোনা মূল ধারার মধ্যে পড়ে না।" এছাড়াও তাঁর স্পষ্ট বার্তা, যারা করোনাকালে সরকারি টিকা নেননি তাঁরাও এই ভাতা পাবেন না।

No comments:
Post a Comment