ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৮ জুন ২০২৬: গৃহবধূকে টেনে হিঁচড়ে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ। চলে অকথ্য অত্যাচার। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে গেলে তাঁর যৌনাঙ্গ থেকে উদ্ধার হয় গুলি, নুড়ি-পাথর ও কাঠের টুকরো। নারকীয় এই ঘটনা ঘটেছে বিহারের বেগুসরাইতে।
ঘটনাটি ঘটেছিল ১১ জুন। এর ছয়দিন পর নির্যাতিতা প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করায় তাঁকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একজন মহিলা ডাক্তার তাঁর যৌনাঙ্গ পরীক্ষা করে ভেতরে একটি গুলি ও নুড়ি-পাথর, কাঠের টুকরো খুঁজে পান। ঘটনাটির খবর ধীরে ধীরে জেলা থেকে পুলিশ সুপারের কাছে পৌঁছায়। এরপর বেগুসরাই সদর এসপিও ওয়ান আনন্দ পান্ডে অন্যান্য পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডাক্তার, নির্যাতিতা এবং তাঁর স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
সদর মহকুমা আধিকারিক (এসডিও) জানান যে নির্যাতিতার যৌনাঙ্গে একটি গুলি পাওয়া গেছে। তিনি ছয় দিন আগে গণধর্ষণের অভিযোগ করেছিলেন। ঘটনাটির খবর পেয়ে পুলিশ সুপার মনীশও বিষয়টি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে সদর হাসপাতালে আসেন। এসপি জানান যে, নির্যাতিতার ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
১১ই জুন গভীর রাতে চাকিয়া থানা এলাকার একটি গ্রামে এক গৃহবধূকে করে গণধর্ষণের অভিযোগ ৫ জনের বিরুদ্ধে। আক্রান্ত চাকিয়া থানায় তিনজন নামধারী এবং দুইজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। নামধারী সকলেই নির্যাতিতার প্রতিবেশী, যাদের মধ্যে রয়েছেন সুরজ কুমার, রামু মাহাতো, নীতীশ মাহাতো এবং দুইজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পর, সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করার জন্য চাকিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক রাজীব রঞ্জনের নেতৃত্বে একটি দল পাঠানো হয়।
নির্যাতিতার ভাষ্যমতে, "১১ই জুন রাতে, প্রায় সাড়ে ১১টার দিকে, তিনি যখন শৌচাগারে যান, তখন ওত পেতে থাকা মুখোশধারী অভিযুক্তরা তাঁর হাত, পা ও মুখ বেঁধে তাঁকে গণধর্ষণ করে। তাঁরা একটি ধারালো অস্ত্র দিয়েও তাঁকে নির্মমভাবে আক্রমণ করে। তাঁর স্বামী যাতে জেগে না ওঠেন, সেজন্য অভিযুক্তরা বাইরে থেকে গেটটি তালাবদ্ধ করে দেয়। এরপর তারা নৃশংস এই ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে যায়।"
গৃহবধূর পরিবারের ভাষ্যমতে, চার মাস আগেও দুষ্কৃতকারীরা নির্যাতিতার ওপর একই ধরণের ঘটনার চেষ্টা হয়েছিল। এদিকে এই ঘটনার পর ভুক্তভোগীর পরিবার চাকিয়া থানায় খবর দিয়ে চিকিৎসার জন্য বড়ৌনি পিএইচসিতে যান। মহিলার গুরুতর অবস্থা দেখে তাঁকে বেগুসরাইয়ের সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়।
নির্যাতিতাকে প্রথমে সদর হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ব্যথা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় পুনরায় পরীক্ষায় তাঁর গুরুতর অভ্যন্তরীণ আঘাত ধরা পড়ে। ডাক্তারি পরীক্ষায় জানা যায় যে, ভুক্তভোগীর শরীরে গুলির টুকরো, নুড়ি পাথর ও কাঠের টুকরো জাতীয় জিনিস পাওয়া গেছে, যা বিষয়টিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে।
নির্যাতিতা জানান যে, কয়েক মাস আগেও তিনি আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু সে সময় কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অভিযুক্তের মনোবল বেড়ে যায়।
এসপি মনীশ কুমার বলেন, 'মামলাটি বৈজ্ঞানিকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত তদন্তে ভুক্তভোগীর অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে সত্য বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এই ঘটনায় জড়িত সকল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার জন্য একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে এবং ক্রমাগত অভিযান চালানো হচ্ছে। এছাড়াও, প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণে কোনও পুলিশ কর্তাকে অবহেলা করতে দেখা গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

No comments:
Post a Comment