নিজস্ব সংবাদদাতা, নদিয়া: মিড-ডে মিলের খাবারে সামান্য একটুখানি ভাত বেশি চাওয়াই যেন কাল হল। স্কুলের গেটম্যানের হাতে মার খেতে হল পঞ্চম শ্রেণির এক পড়ুয়াকে। আর সেই মারের চোটেই ওই পড়ুয়া আহত হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার শান্তিপুর থানার অন্তর্গত কুতুবপুর জুনিয়র হাই স্কুলে। এই নির্মম ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষমেশ ময়দানে নামতে হয় শান্তিপুর থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে।
স্থানীয় ও স্কুল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতোই আজ বৃহস্পতিবারও স্কুলে মিড-ডে মিলের খাবার দেওয়া হচ্ছিল। এই সময় পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্র কর্তব্যরত গেটম্যানের কাছে এক মুঠো ভাত বেশি দেওয়ার অনুরোধ করে। আর এই সামান্য চাওয়াতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওই গেটম্যান। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি ওই শিশুটির মাথায় সজোরে একটি চড় মারেন। চড়ের অভিঘাতে ছাত্রটি মুখের থুবড়ে পড়ে যায় তার নিজেরই খাবারের থালার ওপর। থালার ধারালো কোণায় সজোরে আঘাত লেগে কেটে যায় শিশুটির কপাল। রক্ত বেরোতে দেখে স্কুলেই কান্নায় ভেঙে পড়ে আক্রান্ত পড়ুয়া। অভিযুক্ত গেটম্যান ও উপস্থিত অন্যান্যরা তড়িঘড়ি তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
এদিকে এই খবর চাউর হতেই মুহূর্তের মধ্যে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ছাত্রটির পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। উত্তেজিত জনতা স্কুল চত্বরে জড়ো হয়ে তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অভিযুক্ত গেটম্যানের কঠোর শাস্তির দাবীতে সরব হন তাঁরা। আক্রান্ত ছাত্রের পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলা হয়, "একটা ছোট বাচ্চা, বড়জোর এক মুঠো ভাত বেশি চেয়েছে! তাই বলে তাকে এইভাবে মারধর করা হবে! ভাত চাইলে কি এখন বাচ্চাদের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হবে?"
ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুল চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় এবং পরিস্থিতি কার্যত হাতের বাইরে চলে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শান্তিপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। এলাকায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তাই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের পাশাপাশি তড়িঘড়ি নামানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও। পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে এলেও এলাকায় থমথমে ভাব বজায় রয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। একজন স্কুলকর্মীর এমন অমানবিক আচরণে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবী জানান তাঁরা। এবারে স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে তাঁরা।

No comments:
Post a Comment