ন্যাশনাল ডেস্ক, ৩১ জুলাই ২০২৬: দিল্লীর যন্তর মন্তরে ৩৬ দিন চলেছে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন। এর জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে ছাত্রদের হয়ে আওয়াজ তোলা সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের মুখে এবারে 'সরকার পরিবর্তনের' কথা। তিনি কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, সরকার যদি তার আচরণ না বদলায়, তবে শিক্ষার্থীরা তা বদলে দিতে পারে।
আন্দোলনের পর মহারাষ্ট্রের সম্ভাজিনগরে নিজের বাড়িতে বিশ্রাম নিতে ফিরে আসা অভিজিৎ দীপকে বলেন, "বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়ে তাদের হয়রানি করছে। তাদের আটক ও গ্রেফতারের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তারা সন্ত্রাসী নয়। তারা এই দেশের ভবিষ্যৎ। সরকার যদি দেশের ভবিষ্যৎকে এভাবে হয়রানি করতে থাকে, তবে আমরা আপাতত শুধু ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা নিয়েছি। যদি এই হয়রানি চলতে থাকলে, তাহলে কাল তারা (শিক্ষার্থীরা) সরকারও বদলে দেবে।"
দীপকে বলেন, দেশের যুবদের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা রূপে বড় জয় মিলেছে। তিনি সরকারকে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তারা ভুল ভাবছেন যে ছাত্রছাত্রীরা কেবল এই ইস্তফায় সন্তুষ্ট হয়ে যাবে। সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা বলেন, "সরকার এমন পরিস্থিতি তৈরি করছে যে, আমরা আবার প্রতিবাদে বসে পড়ব। ছাত্রছাত্রীদের সামনে সমস্যা তৈরি করবেন না। ধরে নেবেন না যে ছাত্রছাত্রীরা শান্ত হয়ে গেছে। ছাত্রছাত্রীরা শুধু প্রধানের ওপরই ক্ষুব্ধ ছিল না, তারা পুরো সরকারের ওপরই ক্ষুব্ধ। ছাত্রছাত্রীদের বাড়িতে পুলিশ পাঠাবেন না; এই হুঁশিয়ারি হালকাভাবে নেবেন না।"
সিজেপির আক্রোশ দিল্লী সরকারের সেই ঘোষণা নিয়ে, যাতে বলা হয়েছে যে, সরকার ছাত্রদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেবে না, কিন্তু সেইসব লোকেদেরও ছাড়া হবে না, যাদের অপরাধমূলক রেকর্ড আছে এবং যারা আন্দোলনের সময় সহিংসতা করেছিল। সিজেপি চাইছিল সব এফআইআর ফিরিয়ে নেওয়া হোক এবং কোনও কিন্তু না করে আন্দোলনে সামিল কোনও ব্যক্তির ওপর আইনি পদক্ষেপ না করা হোক। সিজেপির আশঙ্কা পুলিশ এই শর্তের অপব্যবহার করতে পারে। অন্যদিকে, দিল্লী সরকার ২৮ জুলাইয়ের সুপ্রিম কোর্টের জারি নির্দেশের উল্লেখ করে এই শর্ত দিয়েছে। এসবের মাঝেই সিজেপি আবারও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

No comments:
Post a Comment