হাত-পা বাঁধা, মোড়ানো হাঁটু! ভয়াবহ পরিণতি বিজেপি কর্মীর, চাঞ্চল্য কল্যাণীতে - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, July 6, 2026

হাত-পা বাঁধা, মোড়ানো হাঁটু! ভয়াবহ পরিণতি বিজেপি কর্মীর, চাঞ্চল্য কল্যাণীতে


নিজস্ব সংবাদদাতা, নদিয়া: হাত-পা বাঁধা, হাঁটু মোড়ানো অবস্থায় এক বিজেপি কর্মীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার। বাড়ি থেকে তিন কিলোমিটার দূরে রেল লাইনের ধারে একটি গাছে উদ্ধার হয় ওই বিজেপি কর্মীর দেহ। তিনি বিজেপির বুথ সভাপতির ছেলে। পরিকল্পিতভাবে খুনের অভিযোগ বিজেপির। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার কল্যানী থানার সাহেব বাগান ডেঙ্গুর পাড়া এলাকায়। মৃতের নাম বিশ্বজিৎ শিকদার। বিশ্বজিতের বাবা কল্যাণী মণ্ডল ২-এর ১২৭ নম্বর বুথের বুথ সভাপতি। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ এবং কল্যাণীর প্রাক্তন বিধায়ক অম্বিকা রায়। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য এলাকায়।


সোমবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারাই হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বিশ্বজিৎকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে কল্যাণী থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। তাঁকে দ্রুত সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয় কল্যাণী জহরলাল নেহেরু মেমোরিয়াল হাসপাতালে। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। 


এই মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। কীভাবে মৃত্যু হল? তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, এটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক খুন। তাদের দাবী, বিশ্বজিৎকে মেরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।


বিজেপির আরও অভিযোগ, বিশ্বজিতের বাবা কল্যাণী মণ্ডল ১২৭ নম্বর বুথের বুথ সভাপতি। সেই কারণে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে পরিবারের সদস্যদের। অভিযোগ, গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশ্বজিৎকে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য প্রবল চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এলাকায় সক্রিয় বিজেপি কর্মী হিসেবে পরিচিত এই বিশ্বজিৎ তৃণমূলে যোগ না দেওয়ায় তখন থেকে তৎকালীন শাসকদলের রোষানলে পড়ে। একই সাথে এলাকায় বিভিন্ন দুর্নীতির সাথে যুক্ত তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন একজন প্রতিবাদী মুখ। তৃণমূল কর্মীদের কাছে এর আগেও তাঁকে মারধোর খেতে হয়েছিল। এমনকি তাঁর দোকানও ভাঙচুর করা হয়েছিল বলে দাবী স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের। 


সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবী বিজেপির। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি মৃতদেহের ময়নাতদন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন কোনও হাসপাতালে করার দাবীও জানিয়েছে তাঁরা।


এদিকে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কল্যাণী থানার পুলিশ। এখন পর্যন্ত কাউকে সন্দেহ বা গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। বাবা বীরেন শিকদারের অভিযোগ তাঁর ছেলেকে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা খুন করেছে। তিনি দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবী তুলেছেন।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad