নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর ২৪ পরগনা: গেঞ্জি কারখানার বয়লার বিস্ফোরণ। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে এক শ্রমিকের। ঘটনাটি ঘটেছে, শুক্রবার সকালে দত্তপুকুর থানার তালধারিয়া ঘোষপাড়া এলাকায়। জানা গিয়েছে মৃত নাম সঞ্জয় সামন্ত, বয়স ৫৫ বছর। এছাড়াও গুরুতর আহত অবস্থায় আরও একজনকে বারাসত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, এদিন সকালে প্রতিদিনের মতোই কাজ চলছিল। আচমকাই বয়লার বিস্ফোরণ হলে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও একজন শ্রমিক। বাকিরা ভয়ে সেখান থে পালিয়ে যান। বিস্ফোরণের আওয়াজে ছুটে আসেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। আহত শ্রমিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। পাশাপাশি মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
জানা গিয়েছে, এই কারখানাতে গেঞ্জির রঙ করা হতো। তার জন্য বয়লারের মাধ্যমে গরম জলের স্টিম লাগত। এদিন সেই স্টিম অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার কারণে এই বিস্ফোরণ হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান। গোটা ঘটনা কীভাবে হল ঘটল, তদন্তের জন্য এফএসএল টিমকে কল করা হয়েছে। ওই কারখানার ম্যানেজারকে জিজ্ঞাসা করার জন্য আটক করা হয়েছে।
স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, কারখানাগুলো অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে তৃণমূলের আমলেই। নিয়ম মেনে মেশিন না চালানোতেই এদিন এই দুর্ঘটনা ঘটে। এমনকি বছর ২-৩ আগেও এমন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই কারখানাগুলো নিয়ে প্রশাসনকে জানিযেও কোন রকম সুফল হয়নি বলেই অভিযোগ তাঁদের।
স্থানীয় বাসিন্দা শঙ্কর মল্লিক বলেন, 'সকাল সাড়ে দশটা থেকে এগারোটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে। এখানকার সব গেঞ্জি কারখানা অবৈধ। বিগত তৃণমূল সরকার এই সমস্ত কারখানার লাইসেন্সগুলো দিয়ে গেছে। আমরা স্থানীয় হয়েও কিছু করতে পারিনি। ঘটনায় এলাকায় সবাই আতঙ্কিত।'
তিনি জানান, এদিন গেঞ্জি কারখানায় বয়লার ফেটে দুর্ঘটনা ঘটে যায়। এরপর সকলকে বের করে প্রশাসনের তরফে কারখানাটি তালা মেরে দেওয়া হয়। এখানে প্রায় ৭-৮ জন কাজ করেন। একজনের এদিন দুর্ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে এবং আহত অপর একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কারখানা কর্তৃপক্ষের তরফে আক্রান্তদের বাড়িতে খবর দেওয়া হয়েছে। দু'বছর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছিল। তখনও ২-৩ জন মারা গিয়েছিলেন, বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় শুভদীপ বিশ্বাস বলেন, 'আগের সরকারের কাছে পিটিশন জমা দিয়েও কোনও কাজ হয়নি। নিয়ম মেনে এখানে কোনও কাজ হয় না। এদিন সকালে বিস্ফোরণের আওয়াজ পেয়ে এসে দেখি একজনের মৃত্যু হয়েছে। আরও এক আহতকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। মালিক ঘটনার পরেই পালিয়ে যায়। আমরা এলাকাবাসী আতঙ্কিত। প্রশাসনের কাছে আবেদন, দ্রুত এই বিষয়ে যেন আইনি পদক্ষেপ করা হয়। নিরাপত্তা মেনে কারখানা চালাতে পারলে ঠিক আছে, নাহলে পুরোপুরি বন্ধ হবে।'

No comments:
Post a Comment