ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ২৯ জুলাই ২০২৬: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। দেশই দেশই ক্রমাগত একে অপরকে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দিচ্ছে। এরই মধ্যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নতুন হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরান যদি মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা অব্যাহত রাখে, তবে ওয়াশিংটন ‘তেহরানকে খারাপভাবে মারবে’। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, গত রাতের হামলার কঠোর সামরিক জবাব দিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত।
ফক্স নিউজের সঙ্গে এক ফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সম্পদের ওপর ইরানের হামলার কঠোর জবাব দেবে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের ওপর কড়া প্রহার করব। তাঁদের খারাপভাবে মারা হবে।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, ওয়াশিংটন ইরানকে খারাপভাবে মারবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্ডানে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে একটি ‘আকস্মিক হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে, ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করার জন্য সেনাদের হাতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় ছিল।
কঠোর সতর্কবার্তা সত্ত্বেও, ট্রাম্প বলেছেন যুক্তরাষ্ট্র এখনও এই সংকটের একটি কূটনৈতিক সমাধানই পছন্দ করে। এর আগে, হোয়াইট হাউসে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক আলাপচারিতায় তিনি ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটিকে একটি "আকস্মিক হামলার প্রচেষ্টা" হিসেবে বর্ণনা করেন এবং সতর্ক করে দেন যে, ইরান যদি মার্কিন নাগরিকদের নিশানা করা অব্যাহত রাখে তবে তাদের গুরুতর পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে "ভালো আলোচনা" করছে, তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, এ ধরণের যেকোনও হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মতে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ঘাঁটিতে আঘাত হানার আগেই মার্কিন ও জর্ডানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে প্রতিহত করে। এতে কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এটি ছিল কোনও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের প্রথম সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখতে ট্রাম্প গত সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান স্থগিত করেছিলেন।
অন্যদিকে, ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব ইরাকে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া ঘাঁটিগুলোতে যৌথ হামলা চালিয়েছে। এই অভিযানে তেহরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ব্যবহৃত রসদ কেন্দ্র, অস্ত্রের ডিপো এবং সামরিক অবকাঠামোকে নিশানা করা হয়। ইরাক এই হামলার নিন্দা জানিয়ে একে তার সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে, ইরান একটি বৃহৎ অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধ চালানোর কোনও অভিপ্রায় অস্বীকার করেছে। এই অঞ্চলে উত্তেজনা এখনও চরমে রয়েছে।

No comments:
Post a Comment