ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৯ জুলাই ২০২৬: বিরোধীদের তীব্র আপত্তি ও ওয়াকআউটের মধ্যেই লোকসভায় পাশ হয়ে গেল 'পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট, ২০২৪' সংশোধনী বিল। বুধবার ধ্বনি ভোটে সংসদের নিম্নকক্ষে বিলটি অনুমোদিত হয়। সোমবার বিলটি পেশ হওয়ার পর টানা দু'দিন ধরে আলোচনা চলে। বুধবার বিরোধীদের হট্টগোলের মাঝেই পাস হয়ে গেল এই বিল।
লোকসভায় প্রশ্ন ফাঁস বিরোধী সংশোধনী বিল পাস হওয়ায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেশের ছাত্রছাত্রীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই বিলে এমন অনেক কঠোর বিধান রয়েছে যা যুবদের স্বপ্নকে রক্ষা করবে। সমাজমাধ্যম প্লাটফর্ম এক্স পোস্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লিখেছেন, ‘যারা সার্বজনীন পরীক্ষার পবিত্রতা লঙ্ঘনের দুঃসাহস দেখাবে, তাদের জন্য কঠোরতম শাস্তির বিধান রেখে এই বিলটি আমাদের যুবদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে রক্ষা করে।’
তিনি লেখেন, 'আমাদের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন করার চেষ্টা করলে, মোদী সরকার কাউকেই ছাড়বে না। তারা যাতে আইনের পূর্ণ রোষের সম্মুখীন হয়, আমাদের সরকার এটা সুনিশ্চিত করতে কোনও খামতি রাখবে না।
বুধবার লোকসভায় ধ্বনি ভোটে ‘পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। বিলটি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি করা হয়। আলোচনা চলাকালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বিরোধী দল, বিশেষ করে লোকসভার বিরোধী দলনেতার ওপর তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিলে অর্থপূর্ণ পরামর্শ দেওয়ার পরিবর্তে বিরোধী দল বিষয়টিকে নিয়ে রাজনীতি করছে।
দিল্লীতে ছাত্র আন্দোলন, পুলিশের কড়া পদক্ষেপের অভিযোগ এবং দেশজুড়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়ে লোকসভায় শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে বুধবার (২৯ জুলাই) উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার পর এই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় আরও তীব্র হয়। বিরোধী নেতারা দিল্লী পুলিশের পদক্ষেপের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা করেন এবং সরকারের কাছে জবাব দাবী করেন।
রাহুল গান্ধী বলেন যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে স্পষ্ট করতে হবে তিনি বিক্ষোভকারী ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন কি না! তিনি বিধানসভায় অমিত শাহের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন, যার ফলে শাসক দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং ক্ষমা চাওয়ার দাবী তোলেন। তবে, অমিত শাহ সম্পর্কে করা মন্তব্যগুলো লোকসভার কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, পেপার লিক বিরোধী এই নতুন আইনে দোষীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, এই ধরণের অপরাধে জড়িতদের সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।


No comments:
Post a Comment