যন্তর-মন্তরে হওয়া আন্দোলনের পরবর্তী পদক্ষেপ, সংগঠন সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যতের কর্মসূচি নিয়ে বুধবার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। তবে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে CJP-কে রাজনৈতিক দলে রূপান্তর করার কোনও পরিকল্পনা নেই। সংগঠন আগের মতোই সামাজিক আন্দোলন হিসেবেই কাজ চালিয়ে যাবে।
অভিজিৎ দীপকের কথায়, বৈঠকের শুরুতেই যন্তর-মন্তরের আন্দোলনের সাফল্য, সীমাবদ্ধতা এবং অংশগ্রহণকারীদের মতামত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতের আন্দোলন আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হবে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সংগঠনের বিস্তার, নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং আগামী দিনের রোডম্যাপও চূড়ান্ত করা হবে।
রাজনৈতিক দল হওয়ার জল্পনা প্রসঙ্গে দীপকে বলেন, সংগঠনের সদস্যদের মতামত স্পষ্ট—CJP আপাতত সামাজিক সংগঠন হিসেবেই জনস্বার্থের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবে। রাজনৈতিক দলে রূপান্তরের কোনও প্রস্তাব এখন আলোচনায় নেই।
RSS প্রধান মোহন ভাগবতের Gen Z-র সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর মন্তব্য প্রসঙ্গে দীপকে বলেন, তরুণদের আন্দোলনের ফলেই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছে। তবে তাঁর মতে, তরুণদের কাছে পৌঁছাতে হলে যুব ও শিক্ষিত নেতৃত্বকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এস.পি. সিং বাঘেলের "আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব" মন্তব্যের সঙ্গেও একমত প্রকাশ করেন দীপকে। তিনি বলেন, যন্তর-মন্তরের আন্দোলনের উদ্দেশ্যও ছিল সরকারের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজা।
এদিকে, RSS নেতা অতুল লিময়ে অভিযোগ করেছেন, CJP-র আন্দোলনে বিদেশি ও রাজনৈতিক শক্তির অনুপ্রবেশ ঘটেছিল এবং আন্দোলনের কার্যপদ্ধতি নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত। যদিও এই অভিযোগের বিস্তারিত জবাব দেয়নি CJP। সংগঠনের দাবি, তাদের মূল লক্ষ্য এখন সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা এবং সামাজিক আন্দোলনকে দেশজুড়ে বিস্তৃত করা।
অন্যদিকে, সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ফৈজান আনসারি অভিজিৎ দীপকের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, CJP-র সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি মহারাষ্ট্রে তাঁর উপর হামলা চালিয়েছিল। তিনি দীপকের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
এর পাশাপাশি অভিজিৎ দীপকে কেন্দ্র সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, আন্দোলনের সময় সরকারের তরফে যেসব দাবিতে সম্মতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পূরণ না হলে CJP আবারও যন্তর-মন্তরে আন্দোলনে নামতে পারে।

No comments:
Post a Comment