ন্যাশনাল ডেস্ক, ০৪ আগস্ট ২০২৬: অভিনেত্রী তৃষাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে গ্ৰেফতার করা হয়েছে তামিলনাড়ুর প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী তথা ডিএমকে নেতা উদয়নিধি স্ট্যালিনকে। মঙ্গলবার সকালে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। এদিন এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি দিয়েছে মাদ্রাজ হাইকোর্ট। হাইকোর্ট পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার। পাশাপাশি আদালত তাঁকে (স্ট্যালিনকে) প্রয়োজনে তদন্তে সহযোগিতা করার জন্যও নির্দেশ দিয়েছে।
সরকারি আইনজীবীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আদালত তাঁর সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে। শুনানির সময় সরকারি আইনজীবী আদালতকে জানান যে উদয়নিধি স্ট্যালিনকে গ্রেফতার করার কোনও উদ্দেশ্য নেই। তিনি বলেন, মামলাটি একজন নারীর মর্যাদার সঙ্গে জড়িত এবং তাই আইনানুগ পদ্ধতি অনুযায়ী তাকে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তবে, তাঁকে বিচারিক হেফাজতে বা রিমান্ডে পাঠানোর কোনও পরিকল্পনা নেই।
তামিলনাড়ুর অ্যাডভোকেট জেনারেল বিজয় নারায়ণ আদালতকে বলেন যে, পুলিশ উদয়ানিধি স্ট্যালিনকে বিচার বিভাগীয় রিমান্ডে পাঠাতে চায় না। এরপর আদালত উদয়নিধির আগাম জামিনের আবেদনের শুনানি করে। রাজ্যের পক্ষে অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান যে, উদয়ানিধিকে ইতোমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে থানা জামিনে মুক্তি দেওয়া হবে। বিজয় নারায়ণ হাইকোর্টকে বলেন, "তাঁকে ইতোমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হবে। উদয়নিধি স্ট্যালিনকে রিমান্ডে পাঠানোর কোনও ইচ্ছা আমাদের নেই। তদন্তের পর তাঁকে থানা জামিনে মুক্তি দেওয়া হবে।"
সরকারি আইনজীবী আরও জানান যে, ঘটনাটি থাঞ্জাভুর জেলায় ঘটেছে। তাই মামলার সূত্রে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি আদালতকে আশ্বস্ত করেন যে, এই জিজ্ঞাসাবাদ কেবল তদন্ত প্রক্রিয়ারই একটি অংশ। বিজয় নারায়ণ হাইকোর্টকে জানান যে, এই গ্রেফতার "নারীদের স্বার্থে" করা হয়েছে।
সরকার পক্ষের এই যুক্তি বিবেচনায় নিয়ে মাদ্রাজ হাইকোর্ট জানায় যে, তদন্তকারী সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান চালাতে পারে, কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হওয়ার পর উদয়নিধি স্ট্যালিনকে যেন ছেড়ে দেওয়া হয়। আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, এই মামলায় তাঁকে রিমান্ডে রাখার কোনও প্রয়োজন নেই।
উল্লেখ্য, আজ সকালে, থাঞ্জাভুর (পূর্ব) পুলিশ ডিএমকে নেতাকে চেন্নাইয়ের নীলাঙ্কারাইয়ে তাঁর বাসভবন থেকে হেফাজতে নেয় এবং গতকাল কাবেরী নদীর প্রতিবাদ সভায় দেওয়া তাঁর জনসভার ভাষণের ঘটনায় দায়ের করা এফআইআর-এর পরিপ্রেক্ষিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে থাঞ্জাভুরে নিয়ে যায়।
তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ধারা ৬১, ৭৯, ১৯২, ১৯৬, ২৯৬(বি), ৩৫১(২) এবং ৩৫২, তামিলনাড়ু নারী হয়রানি প্রতিরোধ আইনের ধারা ৪ এবং তথ্য প্রযুক্তি আইনের ধারা ৬৭-এর অধীনে মামলা করা হয়েছে।
হেফাজতে নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে উদয়নিধি কোনও অবমাননাকর মন্তব্য করার কথা অস্বীকার করেন এবং অভিযোগ করেন যে তাঁর ভাষণের সম্পাদিত ক্লিপ ছড়িয়ে একটি "ভুয়া আখ্যান" তৈরি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, "আমি যা বলিনি, তা আমি বলেছি বলে দাবী করার জন্য তারা 'কাট, কপি, পেস্ট' ব্যবহার করে ভুয়া খবর ছড়িয়েছে। আমি এসবে ভীত হওয়ার মতো মানুষ নই। আমি আইনগতভাবে এর মোকাবেলা করব।" পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দেন।
প্রসঙ্গত, সোমবার, কাবেরী নদীর প্রতিবাদ চলাকালীন একটি সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় জনতার একাংশ "তৃষা, তৃষা" বলে স্লোগান দিলে উদয়নিধির বক্তব্যে বাধা সৃষ্টি হয় এবং এরপরই এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি উত্তরে বলেন, "জল অন্য কোথাও পৌঁছাক বা না পৌঁছাক, তা এখানেই পৌঁছানো উচিৎ," এবং পরে স্পষ্ট করেন যে তিনি কাবেরী নদীর জলের কথাই বলছিলেন।
এই মন্তব্যের পর, তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে)-এর মহিলা শাখা থাঞ্জাভুর পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করে, যেখানে অভিযোগ করা হয় যে ডিএমকে নেতা অভিনেত্রী তৃষাকে লক্ষ্য করে একটি দ্ব্যর্থবোধক মন্তব্য করেছেন। তবে ডিএমকে দাবী করেছে যে, উদয়নিধির মন্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তা সরকারের কার্যকলাপকে লক্ষ্য করে বলা হয়েছিল, কোনও ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে নয়।

No comments:
Post a Comment