বিনোদন ডেস্ক, ০৪ আগস্ট ২০২৬: প্রতি বছর ১লা আগস্ট বিশ্বজুড়ে বিশ্ব ফুসফুস ক্যান্সার দিবস পালিত হয়। এর উদ্দেশ্য হল ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফুসফুস ক্যান্সারের একটি নতুন ধরণ লক্ষ্য করা গেছে। যারা সিগারেট বা অন্য কোনও ধরনের ধূমপান করেন না, তাদেরও ফুসফুস ক্যান্সার হচ্ছে। চিকিৎসকরা এর অনেক কারণ উল্লেখ করেন, যার মধ্যে একটি হল ধূপকাঠি ধোঁয়াও।
চিকিৎসকরা বলেন যে, বড় শহরগুলোতে ক্রমবর্ধমান বায়ু দূষণ, বাড়িতে দীর্ঘ সময় ধরে মশার কয়েল ব্যবহার, পরোক্ষ ধূমপান এবং কিছু ক্ষেত্রে জিনগত কারণ ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। যদিও এর মানে এই নয় যে এই কারণগুলোর জন্য প্রত্যেক ব্যক্তির ক্যান্সার হবে, তবে দীর্ঘ সময় ধরে এর সংস্পর্শে থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। বেশ কিছুদিন ধরেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, ধূপকাঠির ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসাও বিপজ্জনক হতে পারে। এটিও ফুসফুস ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
ধূপকাঠির ধোঁয়ার সংস্পর্শ কীভাবে বিপজ্জনক?
যশোদা মেডিসিটি হাসপাতালের মেডিকেল অনকোলজি বিভাগের পরিচালক ডা. অভিষেক যাদব এ বিষয়ে জানিয়েছেন। ডা. অভিষেক বলেন, আমরা ধূমপান না করাদের মধ্যেও ফুসফুস ক্যান্সারের ঘটনা দেখতে পাচ্ছি। এর একটি প্রধান কারণ হল বায়ু দূষণ। ধূপকাঠির ধোঁয়াও একটি বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠছে।
ডঃ অভিষেকের কথায়, ধূপকাঠি তৈরিতে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। যখন ধূপকাঠি পোড়ানো হয়, তখন এর ধোঁয়া ফুসফুসে প্রবেশ করে। এর দীর্ঘমেয়াদী সংস্পর্শে ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। তাই, মানুষের জন্য এই ধোঁয়ার সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ। এর পরিবর্তে ঘিয়ের প্রদীপ, কর্পূর এবং এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। এই বিকল্পগুলি কোনও ক্ষতিকর ধোঁয়া ছাড়াই নিরাপদ এবং সুগন্ধময় পরিবেশ প্রদান করে।
ডঃ অভিষেক আরও করেন, ফুসফুসের ক্যান্সারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল মানুষ প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে সাধারণ সর্দি বা অ্যালার্জি ভেবে উপেক্ষা করেন। তবে, এ বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। যদি তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কাশি থাকে, কাশির সাথে রক্ত আসে, শ্বাসকষ্ট হয়, কারণ ছাড়া ওজন কমে যায় বা বুকে ক্রমাগত ব্যথা হয়, তবে এটিকে সাধারণ বলে উড়িয়ে দেবেন না। অবিলম্বে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ।
ডঃ অভিষেক বলেন, কিছু ক্ষেত্রে, মানুষ ক্রমাগত কাশি উপেক্ষা করেন। কিন্তু সঠিক রোগ নির্ণয় করা জরুরি। এটিকে শুধু যক্ষ্মা বা অ্যালার্জির লক্ষণ বলে মনে করবেন না। এক্ষেত্রে ক্যান্সার স্ক্রিনিং করানোর কথাও বিবেচনা করা উচিৎ।

No comments:
Post a Comment