শনিবার IIT দিল্লির ৫৭তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে পড়ুয়াদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁদের নতুন জীবনের জন্য শুভেচ্ছা জানান।
পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মজার ছলেই একটি মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আজ সবাই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও তাঁদের মনে ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা চিন্তা ও পরিকল্পনা নিশ্চয়ই চলছে।
এরপর হাসতে হাসতে মোদী বলেন, “আমি বাবা বাগেশ্বর তো নই, কিন্তু কিছু তো চলছে।” অর্থাৎ, তিনি কারও মনের কথা পড়তে পারেন না, তবে প্রত্যেক পড়ুয়ার মনে ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা ভাবনা রয়েছে—এই কথাই মজার ছলে বোঝাতে চেয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারও হয়তো প্রথম চাকরি এবং প্রথম বেতন পাওয়ার অপেক্ষা রয়েছে। কেউ হয়তো নিজের স্টার্টআপ শুরু করার স্বপ্ন দেখছেন। আবার কেউ উচ্চশিক্ষা বা বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। প্রত্যেকের স্বপ্ন আলাদা হলেও সমাবর্তনের দিনে সকলের মধ্যেই নতুন উদ্দীপনা রয়েছে।
‘দুনিয়া দ্রুত বদলাচ্ছে’
প্রধানমন্ত্রী পড়ুয়াদের উদ্দেশে বলেন, গোটা বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং প্রযুক্তি সেই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ। আগামী ২০-৩০ বছরে পৃথিবী ঠিক কেমন হবে, তা এখন থেকে নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।
তাঁর বার্তা, প্রযুক্তি বদলাবে, পৃথিবী বদলাবে—তাই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিয়মিত নতুন কিছু শেখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
সমাবর্তনে পদক পাওয়া পড়ুয়াদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মেয়েদের অংশগ্রহণ নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আরও বেশি ছাত্রীকে এমন কৃতিত্ব অর্জন করতে দেখা গেলে আরও ভালো লাগত।
‘দেশের জন্য কাজ করার দায়িত্ব’
প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়কার প্রজন্মের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার আগে দেশের মানুষের সামনে প্রধান লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা। সেই লক্ষ্য পূরণ করতে বহু মানুষ দীর্ঘদিন সংগ্রাম ও ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন।
আজকের প্রজন্ম স্বাধীন দেশে বাস করছে। তাই বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্বও আলাদা। মোদী IIT পড়ুয়াদের বলেন, আগামী ৩০-৩৫ বছরে তাঁরা যে কাজ করবেন, তার প্রভাব ভারতের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের উপর পড়বে।
তাই জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শুধু নিজের লাভের কথা নয়, দেশের কী উপকার হবে এবং দেশের কোন প্রয়োজন পূরণ করা সম্ভব—সেটিও ভাবতে হবে, বলে পড়ুয়াদের পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

No comments:
Post a Comment