কোথায় ছিলেন সুমিত? অবশেষে ভবানী ভবনে হাজির অভিষেকের আপ্তসহায়ক - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, August 8, 2026

কোথায় ছিলেন সুমিত? অবশেষে ভবানী ভবনে হাজির অভিষেকের আপ্তসহায়ক


 বেশ কিছুদিন ধরে সুমিত রায়কে ঘিরে চলছিল টানাপোড়েন। শেষ পর্যন্ত শনিবার সিআইডির ভবানী ভবন দফতরে হাজির হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় তদন্তের প্রয়োজনে তাঁকে শনিবার ভবানী ভবনে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছিল CID। সেই নির্দেশ মেনেই নির্ধারিত সময়ের আগেই সেখানে পৌঁছে যান তিনি।

সিআইডির নোটিসে শনিবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে হাজির হতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সুমিত রায় তারও আগে, সকাল ৯টা ৫৪ মিনিট নাগাদ ভবানী ভবনে পৌঁছে যান। কালো গাড়িতে করে CID দফতরে ঢোকার সময় সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা তাঁকে একাধিক প্রশ্ন করেন। তবে কোনও প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তিনি সরাসরি ভিতরে চলে যান।

এর আগে শুক্রবার রাতে শালবনি জমি সংক্রান্ত মামলায় তাঁর ক্যানাল রোডের বাড়িতে CID-এর পক্ষ থেকে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। সেই সময় বাড়িতে সুমিত রায়ের দেখা মেলেনি বলে জানা যায়। ফলে শনিবার তিনি আদৌ হাজির হবেন কি না, তা নিয়ে সকাল থেকেই নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিজেই তদন্তকারী সংস্থার দফতরে পৌঁছে যান তিনি।

একাধিক মামলায় নাম জড়ানোর পর থেকেই তৎপরতা

সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় FIR দায়ের হয়েছে। সেই মামলাগুলির সূত্র ধরেই বেশ কিছুদিন ধরে তাঁর খোঁজ করছিল পুলিশ। তবে দীর্ঘ সময় তাঁর অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুরো ঘটনার সূত্রপাত শালবনি থানায় দায়ের হওয়া জমি দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে। ওই মামলায় সুমিত রায়ের নাম সামনে আসার পর তদন্তকারীদের তৎপরতা বাড়ে। তাঁকে খুঁজতে পুলিশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনেও পৌঁছেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

সেখানে মাঝরাতে বাড়ির দরজা ও তালা ভেঙে তল্লাশি চালানোর অভিযোগও ওঠে। যদিও সেই তল্লাশির সময় সুমিত রায়ের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানা যায়। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি অনিয়মের অভিযোগে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।

আইনি সুরক্ষার জন্য আদালতের দ্বারস্থ

তদন্ত ও গ্রেফতারির আশঙ্কার মধ্যে সুমিত রায় আইনি সুরক্ষা চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। এর মধ্যে চাকরি সংক্রান্ত দুর্নীতির একটি পৃথক মামলাতেও তাঁর নাম সামনে আসে।

সেই মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট তাঁকে তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার শর্তে তদন্তকারীদের সামনে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। একইসঙ্গে সাময়িক আইনি স্বস্তিও দেওয়া হয়েছিল।

তবে শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় তাঁর আগাম জামিনের আবেদন নিম্ন আদালত এবং কলকাতা হাইকোর্ট—দুই জায়গাতেই খারিজ হয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ

হাইকোর্টের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন সুমিত রায়। শীর্ষ আদালত বিষয়টি বিবেচনা করে পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি বা কঠোর আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার নির্দেশ দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে একইসঙ্গে তদন্তে সহযোগিতা করার বিষয়টিও স্পষ্ট ছিল। অর্থাৎ আদালতের কাছ থেকে আইনি সুরক্ষা পেলেও তদন্তকারী সংস্থার সামনে হাজির হয়ে তদন্তে সহযোগিতা করার বাধ্যবাধকতা ছিল তাঁর।

নোটিসের পর ভবানী ভবনে হাজিরা

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরই CID-এর তৎপরতা আরও বাড়ে। শুক্রবার সুমিত রায়ের নিউ আলিপুরের বাড়িতে তদন্তকারীরা গিয়ে শনিবার সকাল ১০টার মধ্যে ভবানী ভবনে হাজির হওয়ার নির্দেশ সংক্রান্ত নোটিস দেন।

সেই নির্দেশ অনুযায়ী শনিবার সকালে ভবানী ভবনে পৌঁছে যান সুমিত রায়। নির্ধারিত সময়ের প্রায় ছয় মিনিট আগেই তাঁর গাড়ি CID দফতরে ঢোকে।

এরপর তদন্তকারী আধিকারিকদের সামনে তাঁর জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। কী কী বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছে বা তাঁর বক্তব্য থেকে তদন্তে নতুন কোনও তথ্য পাওয়া গেল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

আইনি জটিলতা এখনও কাটেনি

ভবানী ভবনে হাজিরা দিলেও সুমিত রায়ের আইনি সমস্যা পুরোপুরি মেটেনি। তাঁর বিরুদ্ধে আরও দুটি পৃথক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ওই মামলাগুলিতে গ্রেফতারি এড়াতে এবং আগাম আইনি সুরক্ষার আবেদন জানিয়ে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।

তাঁর আইনজীবীদের পক্ষ থেকে মামলাগুলির দ্রুত শুনানির আবেদনও করা হয়েছিল। কিন্তু শুক্রবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ সেই জরুরি শুনানির আবেদন গ্রহণ করেনি। আদালত জানিয়েছে, নির্ধারিত কাজের তালিকা অনুযায়ী নিয়ম মেনেই মামলাগুলির শুনানি হবে।

ফলে শনিবার CID-এর সামনে হাজিরা দিলেও সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে চলা আইনি প্রক্রিয়া এখানেই শেষ হচ্ছে না। একদিকে শালবনি জমি সংক্রান্ত মামলার তদন্ত, অন্যদিকে আরও কয়েকটি মামলার আইনি লড়াই—দুই দিকেই এখন নজর রয়েছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad