ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ১০ আগস্ট: কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পের তাণ্ডব। বিপর্যস্ত জনজীবন। সোমবার পশ্চিম কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভূমিকম্পে কয়েক ডজন ভবন ধসে পড়েছে এবং বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং লোকজন তাঁদের বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হন।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কারণে পশ্চিম কলম্বিয়া জুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং এতে অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী দিনগুলোতে মৃতের সংখ্যা ১,০০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। রয়টার্সের বরাত দিয়ে ব্লু রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেরেইরার মেয়র জানিয়েছেন, সেখানে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। মৃতদের মধ্যে ১৮ জন পেরেইরা শহরের বাসিন্দা ছিলেন বলে কারাকল রেডিওকে জানিয়েছেন মেয়র মাউরিসিও সালাজার। তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি ‘সংকটজনক’।
অন্যদিকে, মানিজালেসের মেয়র বলেছেন, সেখানে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এদিকে, কলম্বিয়ার প্রধান প্রশান্ত মহাসাগরীয় বন্দর বুয়েনাভেন্তুরায় একজন মারা গেছেন এবং ভবন ধসে বেশ কয়েকজন আটকা পড়েছেন। শহরের মেয়র আরও জানিয়েছেন, কালি শহরেও ২০টি ভবন ধসে পড়েছে এবং ভেতরে মানুষ আটকা পড়েছেন। পরবর্তীতে, ভ্যালে দে কাউকা বিভাগে ২৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়, যেখানে কলম্বিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালি অবস্থিত।
কলম্বিয়ার বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পেরেইরা, মানিজালেস, কুইবদো, আরমেনিয়া, কার্তাগো এবং বুয়েনাভেন্তুরার বিমানবন্দরগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে এবং সেখানে বিমান চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।
ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল বোগোটা থেকে ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার নামক প্রায় ৪,৮০০ মানুষের একটি জনপদে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা অনুসারে, ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠের ১০৭ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হানে। প্রতিবেশী দেশ ভেনেজুয়েলা ও ইকুয়েডরেও এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর শেয়ার করা ফুটেজে পেরেইরা, কালি ও কুইবদো শহরে বাড়িঘর ও ছোট ছোট ভবন ধসে পড়তে দেখা গেছে। বোগোটা থেকে ৩০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত শহর মানিজালেসে একটি নব্য-গথিক ক্যাথেড্রালের একটি মিনার ধসে পড়েছে।
কলম্বিয়ায় এই কম্পনের পর অনেক এলাকার আতঙ্কিত বাসিন্দারা তাদের বাড়ি ও ভবন থেকে ছুটে বেরিয়ে আসে। প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়ন করছে। প্রাথমিক তথ্য থেকে জানা গেছে যে, বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিছু এলাকায় আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
চোকো প্রদেশের গভর্নর নুবিয়া ক্যারোলিনা কর্ডোবা কুরি বলেছেন, ভূমিকম্পে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। প্রাদেশিক রাজধানী কুইবদোতেও বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এবং অদূর ভবিষ্যতে আরও কম্পনের সম্ভাবনা ব্যক্ত করেছেন। ভূমিকম্পের পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ভবন ও অন্যান্য স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের অগ্রাধিকার হল জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো সম্ভাব্য আফটারশকের ক্ষেত্রে অবিলম্বে ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান শুরু করা।
ভূমিকম্পের কারণে রাজধানী বোগোটা-সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় অল্প সময়ের জন্য আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেশী দেশগুলোতেও কম্পন অনুভূত হওয়ায় ভূমিকম্পের মাত্রা অনুমান করা যায়। কর্তৃপক্ষ বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করছে।
উল্লেখ্য, যদিও মধ্য ও পশ্চিম কলম্বিয়ায় 'টেমব্লোরেস' নামে পরিচিত ছোট ভূমিকম্প সাধারণ ঘটনা, তবে ৬.০ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প বিরল। আরমানিয়া শহরের কাছে ৬.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে ১,১০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
এদিকে এদিন এই দুর্যোগের পর, কলম্বিয়ার নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েল্লা সোমবার বলেছেন যে, ভূমিকম্পের পরে সান হোসে দেল পালমারে সৃষ্ট জরুরি অবস্থা মোকাবেলায় তিনি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, “আপনি একা নন। রাষ্ট্র উপস্থিত আছে এবং ব্যবস্থা নিচ্ছে।”


No comments:
Post a Comment