ন্যাশনাল ডেস্ক, ৩১ আগস্ট ২০২৬: বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ। এতে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২০ জনেরও বেশি গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে এটাই জানা যাচ্ছে। বিস্ফোরণে বেশ কিছু বাড়িঘরও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। উত্তরপ্রদেশের কৌশাম্বীতে সোমবার ঘটেছে এই ভয়াবহ ঘটনাটি।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও দমকল বাহিনীর দল। তারা উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিএম) এবং পুলিশ সুপার (এসপি) ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছেন। প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, বাজি কারখানাটির মালিক আদিল ডিজের ছেলে নিজামউদ্দিনের। ঘটনাটি মানৌরি, পিপরি থানা এলাকায় ঘটেছে।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ কৌশাম্বী জেলার এই দুর্ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। তিনি নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি আহতদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন এবং তাঁদের সব ধরণের সম্ভাব্য সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনাও করেছেন।
সোমবার বেলা ১২টার দিকে পিপরি থানা এলাকার মানৌরি বাজারের একটি বাজি কারখানায় হঠাৎ আগুন লাগায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লাগার সাথে সাথেই কারখানায় রাখা বাজিগুলোতে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণ ঘটতে শুরু করে। বিস্ফোরণের শব্দ দুই কিলোমিটার দূর পর্যন্ত শোনা যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই কারখানা থেকে ওঠা ধোঁয়া আশেপাশের এলাকা ঢেকে ফেলে, যার ফলে বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণে বহু পরিবারের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এক ডজনেরও বেশি মানুষ আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন। ডিএম এবং এসপি ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। দগ্ধদের প্রয়াগরাজের এসআরএন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বসতি থেকে কিছুটা দূরে একটি বাড়িতে বাজি তৈরির কারখানা চলছিল। দুর্ঘটনার সময় বাড়ির ভেতরে প্রায় বারোজন লোক উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। আগুন লাগার পর আশেপাশের এলাকা থেকে গ্রামবাসীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন, কিন্তু একটানা বিস্ফোরণের কারণে ভেতরে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বাড়িটি থেকে হঠাৎ ধোঁয়া উঠতে শুরু করার পর বাজিগুলো বিস্ফোরিত হয়। মাথার ওপর দিয়ে বিদ্যুতের তারও চলে গিয়েছিল।
দুর্ঘটনায় বারোজনেরও বেশি মানুষ গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে। দুটি থানার পুলিশ আধিকারিক ও বাহিনী ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজে সহায়তা করছেন। আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে করে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ডা. অমিত পাল ব্যবস্থা পর্যালোচনা করতে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন এবং ডাক্তারদের সতর্ক রাখা হয়েছে। আগুন লাগার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
বাজি কারখানায় হঠাৎ বিস্ফোরণে আশেপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে। বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কারখানার আশেপাশের ১৫টিরও বেশি বাড়ি ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঁচজনেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন। সরকারের তরফে যদিও আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানানো হয়নি।
বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। বেশ কয়েকটি বাড়ির কাচের জানালা ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এ থেকেই বোঝা যায় যে, বাড়িগুলো থেকে খসে পড়া ইট ও ধ্বংসাবশেষ প্রায় ২৫০ মিটার দূরে অবস্থিত রেলসেতু পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। আশেপাশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁরা ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করে।
খবর পেয়ে প্রয়াগরাজ ও কৌশাম্বী জেলা থেকে পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। উদ্ধার অভিযান শুরু করার জন্য উভয় জেলা থেকে অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকারী দলকে তলব করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ সরাতে এবং ভেতরে আটকা পড়াদের খোঁজার জন্য জেসিবি ও অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান চলছে।
কারখানার আগুন ও বিস্ফোরণের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। প্রশাসনিক আধিকারিকরা পুরো ঘটনাটি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। আ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়াদের যত দ্রুত সম্ভব উদ্ধার করাই বর্তমানে চ্যালেঞ্জ। এমনকি পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি সেনা জওয়ানদেরও তলব করা হয়েছে। বিমানবাহিনীর সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।

No comments:
Post a Comment