ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ৩১ আগস্ট ২০২৬: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে রয়েছেন। সেখানে তিনি ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দুই নেতার মধ্যে এটিই প্রথম বৈঠক। তবে, দুই নেতার মধ্যে কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা (৩১ আগস্ট, ২০২৬) হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই বৈঠক প্রসঙ্গে কোনও পক্ষ থেকেই এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী মোদী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ইরানের নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তিনি ধারাবাহিকভাবে জোর দিয়ে আসছেন যে, সমস্ত বিরোধ সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান করা উচিৎ। প্রধানমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন রোধ করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছেন।
৩০শে জুন ইরানের রাষ্ট্রপতি পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক ফোনালাপে প্রধানমন্ত্রী মোদী এই অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী ইরানে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পেজেশকিয়ানকে ধন্যবাদও জানান।
প্রায় এক মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক ঘন্টা পরেই প্রধানমন্ত্রী মোদী ও পেজেশকিয়ানের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র লারাক দ্বীপে অবস্থিত ইরানের সামরিক রকেট লঞ্চার লক্ষ্য করে হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্র জানায়, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ভূমিমাইন স্থাপন প্রতিরোধ করার জন্য এই পদক্ষেপ জরুরি ছিল।
এর জবাবে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজের আকাশে একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবীও করে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে, ইরানের নেতৃত্ব সংঘাত বাড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে। রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান যুদ্ধ চায় না, কিন্তু আক্রান্ত হলে হামলাকারীদের চূড়ান্ত জবাব দেবে।
এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে রওনা হওয়ার আগেই পেজেশকিয়ান বলেছিলেন যে, ইরান যেকোনও আগ্রাসনের জবাব পূর্ণ শক্তি ও দৃঢ়তার সাথে দেবে। তাঁর এই বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হয়েছিল যে, সংঘাতের আরও বৃদ্ধি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে।
পেজেশকিয়ান বলেন যে, মধ্যপ্রাচ্য এমন একটি অঞ্চল যার ভাগ্য, ইতিহাস এবং সভ্যতা হাজার হাজার বছরের পুরনো। তাঁর মতে, এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সংলাপ, সহাবস্থান এবং উন্নয়নের ঐতিহ্য সবসময়ই বিদ্যমান। তিনি বলেন যে, শান্তি, নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং সভ্যতা এই ভূমি থেকেই বিকশিত হয়েছে এবং আজও এই প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালানো উচিৎ।

No comments:
Post a Comment