ন্যাশনাল ডেস্ক, ০৫ আগস্ট ২০২৬: জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা অপসারণের বিরোধিতা করা পাকিস্তানকে রীতিমতো তুলোধোনা করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ৫ই আগস্ট পাকিস্তানের পালিত তথাকথিত "ইয়োম-ই-ইস্তেহসাল" (শোষণ দিবস)-এর প্রহসনকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকার জানিয়েছে যে, পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) তাদের চালানো সহিংসতা এবং নিজেদের সন্ত্রাসবাদের ইতিহাস থেকে মনোযোগ সরানোর জন্য ইসলামাবাদ এই ধরণের বিষয় উত্থাপন করে। জম্মু-কাশ্মীর বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এতে হস্তক্ষেপ করার কোনও অধিকার পাকিস্তানের নেই।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল পাকিস্তান সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের মন্তব্যকে অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, "ইয়োম-ই-ইস্তেহসাল উদযাপনের পাকিস্তানের সমস্ত অযৌক্তিক কর্মকাণ্ড আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রচারণা।"
তিনি বলেন, "২০১৯ সালের ৫ আগস্ট করা সাংবিধানিক পরিবর্তনগুলো সম্পূর্ণরূপে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এই সিদ্ধান্তগুলো এই অঞ্চলের মানুষের জন্য অভূতপূর্ব সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিবর্তন এনেছে। এই পরিবর্তনগুলো সেখানে গণতন্ত্রকে মজবুত করেছে। ভারতের একান্ত অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করার কোনও অধিকার পাকিস্তানের নেই।"
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, পাকিস্তান ৫ই আগস্ট ‘ইয়োম-ই-ইস্তেহসাল’ উদযাপনের মাধ্যমে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) তাদের নৃশংসতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে বিশ্বের দৃষ্টি অন্যদিকে সরানোর চেষ্টা করছে। জয়সওয়াল বলেন, "মিথ্যা ছড়ানোর জন্য পাকিস্তানের এই মরিয়া প্রচেষ্টার একমাত্র উদ্দেশ্য হল তাদের দুর্বল মানবাধিকার রেকর্ড এবং সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে তাদের অবস্থান থেকে বিশ্বের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়া।"
তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ২০১৯ সালে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর সৃষ্ট জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখের
কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল "ভারতের একটি অবিচ্ছেদ্য ও অবিভাজ্য অংশ, সর্বদা ছিল এবং সর্বদা থাকবে।"
পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে (পিওজেক) বিক্ষোভকারীদের ওপর পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর দমনপীড়নের কথা উল্লেখ করেছেন জয়সওয়াল। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই অঞ্চলে "মৌলিক অধিকারের নৃশংস দমন" প্রত্যক্ষ করছে। তিনি বলেন, "সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে, পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী স্থানীয় জনগণের শান্তিপূর্ণ নাগরিক অধিকার আন্দোলন দমনের জন্য প্রাণঘাতী সহিংসতা, টার্গেটেড কিলিং এবং কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। নিরস্ত্র সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে এই ধরণের রাষ্ট্রীয় সহিংসতা পাকিস্তানি ব্যবস্থার গভীর ভণ্ডামিকে উন্মোচিত করে।"
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষোভ চলছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এই বিক্ষোভকে নৃশংসভাবে দমন করছে, যাতে এখন পর্যন্ত ৯০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
প্রসঙ্গত, কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বাতিলের বিষয়টি পাকিস্তান বছরের পর বছর ধরে হজম করতে পারেনি। প্রতিবাদ হিসেবে তারা ৫ই আগস্টকে 'ইয়াম-ই-ইস্তেহসাল' হিসেবে পালন করে। পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বুধবার সকালে একটি ভিডিও বার্তায় ভিত্তিহীন দাবী করেন, যাকে সন্ধ্যার মধ্যে ভারত অপপ্রচার চালানোর একটি নিষ্ফল রাজনৈতিক প্রচেষ্টা বলে আখ্যা দেয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করে পাকিস্তানি মন্ত্রীর এই ঘৃণ্য মন্তব্যকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

No comments:
Post a Comment