'এটা সেই বাংলাদেশ নয়, যার জন্য---', পরিবারের সদস্যদের স্মরণ করে কেঁদে ফেললেন শেখ হাসিনা - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, August 5, 2026

'এটা সেই বাংলাদেশ নয়, যার জন্য---', পরিবারের সদস্যদের স্মরণ করে কেঁদে ফেললেন শেখ হাসিনা


ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ০৫ আগস্ট ২০২৬: ছাত্র বিক্ষোভের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা‌। এরপরেই সেখান থেকে ভারতে চলে আসেন তিনি। এর প্রায় দু'বছর অন্তরালে থাকার পর, বুধবার প্রথম সংবাদ সম্মেলন করলেন সেদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সময় পরিবারের সদস্যদের স্মরণ করতে গিয়ে তিনি আবেগঘন হয়ে পড়েন এবং কাঁদতে শুরু করেন। এদিন ভার্চুয়াল বার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, 'এটা সেই বাংলাদেশ নয়, যার জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষ বলিদান দিয়েছেন।' 


বুধবার, ৫ আগস্ট নয়াদিল্লীতে এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা বলেন, "আজ আমি শুধু একজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই নয়, জাতির পিতার কন্যা হিসেবেও কথা বলছি।" মৃত পরিবারের সদস্যদের স্মরণ করে কেঁদে ফেলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা বলেন, "গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের সর্বত্র ভয় ছড়িয়ে পড়েছে। এটা সেই বাংলাদেশ নয়, যার জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষ বলিদান দিয়েছেন। কিছু বছর ধরে কিছু সংগঠন শিক্ষার্থীদের দাবীকে সহিংসতায় রূপ দেওয়ার জন্য কাজ করছিল। সংগঠিত গোষ্ঠীগুলো এটিকে সহিংসতা এবং ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্য ব্যবহার করেছে।"


তিনি বলেন, "গত দুই বছর ধরে আমি আমার প্রিয় বাংলাদেশকে দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে যেতে দেখেছি। এটা সেই বাংলাদেশ নয় যা আমরা গড়ে তুলেছিলাম। এটা সেই বাংলাদেশ নয় যার জন্য ১৯৭১ সালে ৩০ লক্ষ মানুষ নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। আমি ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসের সত্য দিয়ে শুরু করতে চাই। এটি কোনও শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না। শুরু থেকেই আমার সরকার সংলাপ, আইনি প্রক্রিয়া এবং ধৈর্যের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সংস্কারের আড়ালে কিছু সংগঠিত গোষ্ঠী ছাত্রদের দাবীকে একটি সহিংস রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত করার চেষ্টা করছিল।"


হাসিনা বলেন, "আমি একটি প্রশ্ন করতে চাই। এমন পরিস্থিতিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব কী? যখন একটি থানা জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, মানুষ প্রাণ হারায়, অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা শুধু ক্ষমতা চেয়েছিল, সত্য নয়। আওয়ামী নেতা ও কর্মীদের মারা হচ্ছে, নিখোঁজ হচ্ছেন। ১০ হাজার কর্মী হয় নিহত হয়েছেন অথবা নিখোঁজ রয়েছেন। এক লক্ষেরও বেশি নেতা-কর্মী প্রভাবিত হয়েছেন। আমার বিরুদ্ধে ৬০০টিরও বেশি মামলা করা হয়েছে। আমি এমন একজন হিসেবে কথা বলছি যিনি বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গেই জীবন কাটিয়েছে। যাঁকে তাঁর দেশ থেকে দূরে যেতে বাধ্য করা হয়, কিন্তু আমি কখনও আমার মানুষদের থেকে বিচ্ছিন্ন হইনি। তোলাবাজি ও খুন দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে।"


এছাড়াও শেখ হাসিনা বলেন, "সাংবাদিকতার কাজ হল সত্য তুলে ধরা। গত দুই বছরে আমি অনেক কিছু হারিয়েছি। এটা ১৯৭১ সালে যাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তাঁদের নিয়ে নয়। একটি সংগঠিত গোষ্ঠী মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়েছে। এটা কোনও স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ ছিল না। এটি ছিল পরিকল্পিত এবং লক্ষ্যবস্তুভিত্তিক। সম্পত্তির ক্ষতি করা হয়েছে। বিভিন্ন ভবন, মেট্রো রেল স্টেশন, ফ্লাইওভার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। সংবাদমাধ্যমকে নিশানা করা হয়। মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়। পুলিশকে আক্রমণ ও খুন করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীদের দায়িত্ব কী ছিল? আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর দায়িত্ব হল সুরক্ষা দেওয়া। আমাকে আটক বা গ্রেফতার করা হতে পারত। আমি ১৯৭৫ সালে আমার পরিবারকে হারিয়েছি। আমি ছয় বছর নির্বাসনে ছিলাম।"


অন্যদিকে, শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ বলেছেন যে, বাংলাদেশ আরেকটি পাকিস্তানে পরিণত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা প্রায় ১,৪০০, যেখানে সরকারি পরিসংখ্যানে মৃতের সংখ্যা ৮০০ বলা হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, ইউনুস সরকার মানুষকে খুনের জন্য একটি বিল পাস করেছে। পুলিশের তরফে করা হত্যার জন্য কারও ওপর মামলা করা যাবে না। পুলিশসহ যে কারও খুনের মামলায় আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। পুলিশি হেফাজতে হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটছে। আওয়ামী লীগ-সমর্থক সাংবাদিক ও সম্পাদকদের কারারুদ্ধ করা হয়েছে। ভারত একটি বৃহৎ গণতন্ত্র। আপনারা এই বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। আপনারা যখন এগুলো কভার করেছেন, তখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও তা করেছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad