ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ০৪ আগস্ট ২০২৬: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রেই তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। পঁচিশটি রাজ্য ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। সোমবার এই মামলা হয়। তাদের অভিযোগ, সরকার সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী একটি রায় উপেক্ষা করে জোরপূর্বক নতুন শুল্ক আরোপ করছে।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আরও ৫৯টি দেশের ওপর দুই অঙ্কের শুল্ক আরোপ করে। ট্রাম্প প্রশাসন দাবী করে যে, এই দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি রোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পর আরোপিত অস্থায়ী শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক সময়েই এই নতুন শুল্ক কার্যকর হয়েছে।
এই মামলার নেতৃত্বদানকারী নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস বলেছেন, "সুপ্রিম কোর্টে মামলায় হেরে যাওয়ার পর, প্রশাসন নতুন শুল্কের মাধ্যমে আবারও সাধারণ পরিবার ও ব্যবসার ওপর অবৈধ করের বোঝা চাপানোর চেষ্টা করছে।"
ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বাস করেন যে, ভারী শুল্ক আরোপ করলে আমেরিকান উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে, গত বছর তিনি ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ) প্রয়োগ করে প্রায় প্রতিটি দেশ থেকে আমদানির ওপর ভারী শুল্ক আরোপ করেছিলেন।
তবে, এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে, আইইইপিএ আইনের অধীনে শুল্ক আরোপ করার ক্ষমতা সরকারের নেই। এই আদালতের রায় সরকারকে আমদানিকারকদের কাছ থেকে সংগৃহীত কর ফেরত দিতে বাধ্য করে। পরবর্তীতে, সরকার একটি অস্থায়ী ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে, যার মেয়াদ ২৪শে জুলাই মধ্যরাতে শেষ হয়ে যায়।
অস্থায়ী শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই, ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা প্রয়োগ করে ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপ করে। এই আইনটি রাষ্ট্রপতিকে অন্যায্য বাণিজ্য নীতিতে জড়িত দেশগুলোর ওপর কর আরোপ করার ক্ষমতা দেয়। এই নতুন শুল্কগুলো এমন দেশগুলোকে প্রভাবিত করে, যেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ৯৯ শতাংশ আমদানি হয়।
এদিকে, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেসাই সরকারের এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। তিনি বলেন, জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য নিষিদ্ধ না করা আমেরিকান ব্যবসা ও শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিকর। তিনি আরও বলেন যে, ধারা ৩০১-এর অধীনে আরোপিত শুল্ক একটি সম্পূর্ণ আইনসম্মত ও যৌক্তিক পদক্ষেপ।

No comments:
Post a Comment