বারবার বুকজ্বালা ও টক ঢেঁকুর? শুধু ‘গ্যাস’ নয়, হতে পারে অ্যাসিড রিফ্লাক্স - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, September 3, 2026

বারবার বুকজ্বালা ও টক ঢেঁকুর? শুধু ‘গ্যাস’ নয়, হতে পারে অ্যাসিড রিফ্লাক্স



খাওয়ার পর বুক জ্বালা, টক ঢেঁকুর, মুখে তেতো বা টক তরল উঠে আসা—এ ধরনের সমস্যা অনেকেরই পরিচিত। সাময়িক অস্বস্তি হলে বেশিরভাগ মানুষ এটিকে ‘গ্যাস’ বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু একই সমস্যা বারবার হলে বা রাতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটালে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ এর পেছনে থাকতে পারে অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GERD)।

পাকস্থলীতে খাবার হজমের জন্য অ্যাসিড তৈরি হয়। সাধারণ অবস্থায় খাদ্যনালী ও পাকস্থলীর সংযোগস্থলের একটি পেশি পাকস্থলীর উপাদানকে উপরে উঠে আসা থেকে আটকাতে সাহায্য করে। এই ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ না করলে পাকস্থলীর অ্যাসিড বা খাবারের অংশ খাদ্যনালীর দিকে ফিরে আসতে পারে। এর ফলেই তৈরি হয় বুকজ্বালা ও অন্যান্য অস্বস্তি।

মাঝে মধ্যে রিফ্লাক্স হওয়া স্বাভাবিক হতে পারে। তবে সমস্যা ঘন ঘন হলে সেটিকে অবহেলা করা উচিত নয়।

কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে?

অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো বুকের মাঝখানে জ্বালাপোড়া। সাধারণত খাবারের পর, বেশি খাওয়ার পরে বা শুয়ে পড়লে এটি বাড়তে পারে।

এর সঙ্গে থাকতে পারে—

মুখে টক বা তেতো তরল উঠে আসা

বারবার ঢেঁকুর

গলা বা বুকের অস্বস্তি

গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতি

দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা গলা খুসখুস

কণ্ঠস্বর ভেঙে যাওয়া

রাতে উপসর্গ বেড়ে ঘুমের ব্যাঘাত

তবে এসব লক্ষণ শুধু GERD-এর জন্যই হয় না। তাই দীর্ঘদিনের সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

কোন কারণে সমস্যা বাড়তে পারে?

অ্যাসিড রিফ্লাক্সের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করতে পারে। একবারে বেশি খাবার খাওয়া, খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়া, অতিরিক্ত ওজন এবং কিছু নির্দিষ্ট খাবার বা পানীয় অনেকের ক্ষেত্রে উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে।

ঝাল বা অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার, কার্বনেটেড পানীয়, চা-কফি কিংবা চকোলেট কারও কারও ক্ষেত্রে সমস্যা বাড়ায়। তবে সবার ক্ষেত্রে একই খাবার দায়ী নয়। তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে অনেক খাবার একসঙ্গে বাদ না দিয়ে নিজের উপসর্গের সঙ্গে কোন খাবারের সম্পর্ক রয়েছে, তা লক্ষ্য করা ভালো।

ধূমপানও রিফ্লাক্সের সমস্যা বাড়াতে পারে।

রাতের বুকজ্বালার সঙ্গে খাবারের সম্পর্ক

রাতে ভারী খাবার খেয়ে দ্রুত শুয়ে পড়লে কিছু মানুষের রিফ্লাক্স বেড়ে যায়। এ কারণে রাতের খাবারের সময় ও পরিমাণের দিকে নজর দেওয়া উপকারী হতে পারে।

খাওয়ার পর কিছুক্ষণ সোজা হয়ে থাকা এবং ঘুমানোর ঠিক আগে অতিরিক্ত খাবার না খাওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে। রাতে নিয়মিত বুকজ্বালা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

পেটের মেদও কি ভূমিকা রাখে?

অতিরিক্ত ওজন, বিশেষ করে পেটের চারপাশে বেশি চর্বি থাকলে কিছু মানুষের অ্যাসিড রিফ্লাক্সের ঝুঁকি বাড়তে পারে। অতিরিক্ত ওজন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর ওজনের দিকে যাওয়া উপকারী হতে পারে।

তবে শুধু ওজন বেশি হলেই রিফ্লাক্স হবে এমন নয়। স্বাভাবিক ওজনের মানুষেরও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

‘গ্যাসের ওষুধ’ খেয়ে বারবার উপসর্গ চাপা দেওয়া কি ঠিক?

বুকজ্বালা বা অম্বল হলেই নিজের মতো করে ওষুধ খাওয়ার প্রবণতা অনেকের রয়েছে। সাময়িকভাবে উপসর্গ কমলেও বারবার ওষুধের প্রয়োজন হলে সমস্যাটির কারণ খুঁজে দেখা জরুরি।

দীর্ঘদিন ধরে নিজে থেকে অ্যাসিড কমানোর ওষুধ ব্যবহার না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। উপসর্গের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা বা চিকিৎসা নির্ধারণ করতে পারেন।

কখন সতর্ক হবেন?

নিচের যেকোনো সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত—

বারবার বা দীর্ঘদিন বুকজ্বালা হওয়া

খাবার গিলতে অসুবিধা

খাবার গলায় আটকে যাওয়ার মতো অনুভূতি

বারবার বমি

অকারণে ওজন কমে যাওয়া

দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা গলার সমস্যা

রক্তবমি

কালো পায়খানা

বিশেষ করে রক্তবমি বা কালো পায়খানার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

বুকজ্বালা নাকি হার্টের সমস্যা?

বুকের অস্বস্তিকে সবসময় গ্যাস বা অ্যাসিডিটি ধরে নেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। হৃদ্‌যন্ত্রের কিছু সমস্যাতেও বুকের চাপ, ব্যথা বা জ্বালাপোড়ার মতো অনুভূতি দেখা দিতে পারে।

নতুন বা তীব্র বুকব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, মাথা ঘোরা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা কিংবা ব্যথা হাত, কাঁধ, পিঠ, ঘাড় বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়লে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

পেটের সুস্থতার জন্য কয়েকটি সহজ অভ্যাস

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন রিফ্লাক্সের উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। একবারে অতিরিক্ত খাবার না খেয়ে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা, ধীরে খাবার খাওয়া এবং নিজের ক্ষেত্রে সমস্যা বাড়ায় এমন খাবার এড়িয়ে চলা ভালো অভ্যাস।

এছাড়া খাওয়ার পরপরই শুয়ে না পড়া, নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা, অতিরিক্ত ওজন থাকলে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা এবং ধূমপান এড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।

শেষ কথা

বুকজ্বালা বা টক ঢেঁকুর মাঝে মধ্যে হলে তা সবসময় গুরুতর অসুস্থতার লক্ষণ নয়। কিন্তু সমস্যা যদি বারবার ফিরে আসে, দৈনন্দিন জীবন বা ঘুমে প্রভাব ফেলে, কিংবা অস্বাভাবিক কোনো লক্ষণ যুক্ত হয়, তাহলে ‘গ্যাস’ বলে বিষয়টি এড়িয়ে না গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

ডিসক্লাইমার

এই প্রতিবেদনটি সাধারণ স্বাস্থ্যসচেতনতার উদ্দেশ্যে তৈরি এবং কোনো রোগ নির্ণয় বা ব্যক্তিগত চিকিৎসার বিকল্প নয়। একই ধরনের উপসর্গ বিভিন্ন রোগে দেখা দিতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী বা গুরুতর সমস্যা থাকলে যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তীব্র বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, রক্তবমি, কালো পায়খানা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো জরুরি লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। নিজে থেকে দীর্ঘদিন কোনো ওষুধ সেবন করবেন না।


No comments:

Post a Comment

Post Top Ad