ভারত সফররত বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার একটি আন্তর্জাতিক ফোরাম থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, ইউরোপ বর্তমানে যে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সংকটের সম্মুখীন, সে বিষয়ে ইউরোপকে অনেক আগেই সতর্ক করেছিল। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সময়ে ইউরোপীয় দেশগুলো ভারতের সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দেয়নি, কিন্তু এখন বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে।
কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই) ফোরাম থেকে ভাষণ
রাজধানী দিল্লিতে কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই) আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, ইউরোপ দীর্ঘদিন ধরে সস্তা বিদেশি আমদানির জন্য তার দরজা খোলা রেখেছে। এটি ইউরোপীয় শিল্পকে বিরূপভাবে প্রভাবিত করেছে এবং অন্যান্য দেশের উপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি স্পষ্টতই চীনের বাণিজ্য নীতির কথা উল্লেখ করছিলেন।
অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার ঝুঁকি: ডি ওয়েভার বলেন যে, একটি দেশের উপর অতিরিক্ত কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা ভবিষ্যতে ব্ল্যাকমেল বা চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হয়ে ওঠে। তিনি স্বীকার করেন যে, ইউরোপের অনেক আগেই ভারত এই ঝুঁকিটি উপলব্ধি করেছিল।
ইউরোপের সবচেয়ে বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে ভারতের বর্ণনা
বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী ভারতকে পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থায় ইউরোপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ইউরোপকে এখন অবশ্যই সেইসব গণতান্ত্রিক দেশের সঙ্গে তার সম্পর্ক জোরদার করতে হবে, যারা পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের নীতিতে পরিচালিত হয়।
প্রতিরক্ষা ও সরবরাহ শৃঙ্খলে ক্রমবর্ধমান অংশীদারিত্ব
ভারত ও বেলজিয়ামের মধ্যে কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ক্রমাগত অগ্রসর হচ্ছে:
সামরিক সহযোগিতা: দুই দেশ সামরিক সরঞ্জামের সহ-উৎপাদন, যৌথ প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
অর্থনৈতিক সুযোগ: চীন থেকে নিজেদের সরবরাহ শৃঙ্খল বিচ্ছিন্ন করার জন্য ইউরোপের প্রচেষ্টার মাঝে, ইউরোপীয় বাজারে ভারতীয় সংস্থাগুলির জন্য নতুন ব্যবসায়িক ও শিল্প সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment