লাইফস্টাইল ডেস্ক, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬: মাসিক চক্র নারীদের জীবনে একটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এতে সামান্য ব্যাঘাত ঘটলেও তা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। যেহেতু মাসিক বা ঋতুস্রাব একজন নারীর প্রজনন ক্ষমতার সাথে সম্পর্কিত, তাই অল্প বয়সে করা ভুলগুলো পরবর্তী জীবনে অনুশোচনার কারণ হতে পারে। মাসিক চক্রের সময় পিঠে ব্যথা, পেটে ব্যথা, পায়ে ব্যথা, পেট ফাঁপা, ক্লান্তি এবং মেজাজের পরিবর্তন সাধারণ ব্যাপার। তবে, আপনি যদি এই দুটি ভুল করে থাকেন, তাহলে ভবিষ্যতে ৪০-৪৫ বছর বয়সে পৌঁছানোর পর আপনি এর বিরূপ প্রভাবের সম্মুখীন হতে পারে।
পুষ্টিবিদ শ্বেতা শাহ এমন দুটি ভুলের ওপর আলোকপাত করেছেন যা অনেক মেয়েরা তাদের মাসিকের সময় করে থাকেন। যদিও এই দুটি ভুল সামান্য বলে মনে হয়, তবে প্রায় ৪৫ বছর বয়সের কাছাকাছি সময়ে এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।
মাসিকের সময় ভারী ব্যায়াম
এটি কিছুটা সেকেলে শোনাতে পারে, কারণ আজকাল মেয়েরা প্রতিদিন সব ধরণের কাজ করেন এবং মাসিকের সময় বিশ্রামও নেয় না। কিন্তু কিছু নিয়ম সুচিন্তিত এবং শরীরের জন্য উপকারী। উদাহরণস্বরূপ, পিরিয়ডের সময় ভারী ব্যায়াম এড়িয়ে চলুন। শ্বেতা শাহ ব্যাখ্যা করেন যে, আয়ুর্বেদ অনুসারে, পিরিয়ডের প্রথম ২-৩ দিন শরীরের বিশেষ বিশ্রামের প্রয়োজন হয়।
ভারী ব্যায়াম, ওজন তোলা বা পেটের তীব্র ব্যায়াম হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। যদি একান্তই করতে হয়, তবে স্ট্রেচিং, সাধারণ যোগব্যায়াম বা শুধু আরামদায়ক হাঁটা চেষ্টা করুন। প্রাথমিকভাবে এগুলোর কোনও প্রভাব দেখা নাও যেতে পারে, কিন্তু যখন আপনার বয়স ৪০ বা ৪৫-এর কাছাকাছি পৌঁছাবে, তখন পিরিয়ডের সময় এই অভ্যাসটি আপনার শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
ঠাণ্ডা খাবার ও পানীয় খাওয়া
পিরিয়ডের সময় অনেক মেয়েরাই বিভিন্ন খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা অনুভব করেন। তাদের মিষ্টি ও ঠাণ্ডা খাবারের প্রতি আকর্ষণ জন্মায় এবং তারা প্রায়শই আইসক্রিম, কোল্ড কফি এবং অন্যান্য ঠাণ্ডা পানীয় খেয়ে থাকেন। তবে, এই ঠাণ্ডা খাবারগুলো পেট ফাঁপা, পেটে ব্যথা এবং মেজাজের ওঠানামাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। পুষ্টিবিদরা বলেন যে, ঠাণ্ডা খাবার শুধু হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে পেট ফাঁপার কারণই হয় না বরং ব্যথাও বাড়িয়ে দেয়।
পিরিয়ডের সময় এই বিষয়গুলোর খেয়াল রাখুন-
পিরিয়ডের সময় শরীরের অতিরিক্ত যত্নের প্রয়োজন হয়। আপনার খাদ্যতালিকায় আয়রন-সমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করুন এবং ভাজা ও অতিরিক্ত মশলাদার খাবার এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়।
পরিচ্ছন্নতার প্রতি খেয়াল রাখুন এবং সম্ভব হলে প্রতি ৫-৬ ঘন্টা পর পর আপনার প্যাড, ট্যাম্পন ও কাপ পরিবর্তন করুন।

No comments:
Post a Comment