কলকাতা: রাজ্য বিজেপিতে বড়সড় রদবদল করা হল।সাংগঠনিক পদ থেকে সরানো হল মন্ত্রীদের। পুরভোটের আগেই জেলাস্তরে রাজ্য বিজেপিতে সাংগঠনিক রদবদল করা হয়েছে। সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সাত জেলার সভাপতিকে। সাত জেলার মধ্যে রয়েছে বারাসত, বনগাঁ, আরামবাগ, শ্রীরামপুর, মেদিনীপুর, বর্ধমান, কাটোয়া। এছাড়া, চার মোর্চার সভাপতিও বদল করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার দিল্লীতে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের সঙ্গে বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্যরা। তারপরই আজ শুক্রবার বঙ্গ বিজেপিতে এই সাংগঠনিক রদবদল করা হল। বিজেপি সূত্রে খবর, পুরভোটের আগে সংগঠনকে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তাই এই রদবদল করা হল। এছাড়া আরও একটা কারণ হিসেবে উঠে আসছে ‘এক ব্যক্তি, এক পদ নীতি’।
সংগঠন থেকে সরেছেন রাজ্যের সাত মন্ত্রী। সেই তালিকায় রয়েছেন অগ্নিমিত্রা পাল, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, তাপস রায়, দীপক বর্মন, নিশীথ প্রামাণিক, ইন্দ্রনীল খাঁ। তাঁরা প্রত্যেকেই রাজ্যের মন্ত্রী। একইসঙ্গে বিভিন্ন সাংগঠনিক পদেও ছিলেন। ‘এক ব্যক্তি, এক পদ নীতি’ কার্যকর করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁদের।
এদিকে রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে শর্বরী মুখোপাধ্যায়কে, যা তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, শর্বরী বিধায়ক ছাড়া আরও কোনও দায়িত্বে নেই। তাঁর ক্ষেত্রে ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতি কার্যকর হয় না। সম্পাদক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে শঙ্কর ঘোষকে। বিধানসভার সরকারি মুখ্য সচেতক অম্লান ভাদুড়িকেও সম্পাদক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, চার মোর্চার সভাপতি বদল করা হয়েছে। বিজেপির যুব মোর্চা, মহিলা মোর্চা, এসসি মোর্চা ও ওবিসি মোর্চার সভাপতি বদল করা হয়েছে। বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি হলেন আমতার বিধায়ক অমিত সামন্ত। মহিলা মোর্চা সভানেত্রী অঞ্জনা বসু। ওবিসি মোর্চার সভাপতি হয়েছেন ধনঞ্জয় ঘোষ। এসসি মোর্চার সভাপতি হয়েছেন বিশ্বজিত সামন্ত।
সাত জেলার নতুন সভাপতি-
বনগাঁ: নৃপেন বিশ্বাস
বারাসত: দীপঙ্কর চক্রবর্তী
শ্রীরামপুর: শশী সিংহ
আরামবাগ: প্রশান্ত দিগর
মেদিনীপুর: সৌমেন তিওয়ারি
বর্ধমান: আশিস পাল
কাটোয়া: মানিক রায়
জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, অগ্নিমিত্রা পাল, তাপস রায়- এঁরা সকলেই মন্ত্রী। তাঁদের হাতে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর রয়েছে। বিজেপির দলীয় নীতি অনুযায়ী, একই ব্যক্তিকে একাধিক পদে রাখা যায় না। দলীয় সূত্রের খবর, সেই কারণেই তাঁদের সাংগঠনিক পদ থেকে সরানো হয়েছে। কিন্তু এই যুক্তি খাটে না শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে। তিনি যাদবপুরের বিধায়ক, কোনও দফতররের মন্ত্রী নন। তবুও তাঁকে সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতরর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু এমন পদক্ষেপ কেন? রাজনৈতিক মহলের একটি বড় অংশ মনে করছে, সম্প্রতি একাধিক বিতর্কে নাম জড়িয়েছে শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অশান্তির ঘটনায় জড়িয়েছে শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের নাম। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি আদতে কসবা বিধানসভা এলাকার অন্তর্গত, তবুও কেন শর্বরী সেখানে গিয়েছিলেন সেই প্রশ্ন উঠেছিল। তাঁর বেশ কিছু মন্তব্য নিয়েও বিতর্ক হয়েছে। সেই আবহে তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে কি কোনও বার্তা দেওয়া হল? শুরু হয়েছে নানান গুঞ্জন।
আবার পুজোর পরেই রাজ্যের একাধিক পুরসভার নির্বাচন হওয়ার কথা। সেই তালিকায় রয়েছে কলকাতা, হাওড়া পুরসভাও। পুরভোটের আগে সংগঠন ঢেলে সাজানোর কাজ করছে বিজেপি। মন্ত্রীরা প্রশাসনিক দায়িত্বে অনেক বেশি ব্যস্ত থাকবেন, সেই কারণেই সংগঠনে নতুন মুখ এনে ভোটের ঝাঁপানোর কাজ করবে বিজেপি, রাজনৈতিক মহলের বৃহাংশের অন্তত মত এমনটাই।

No comments:
Post a Comment